


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ডিআইজি, এসপি র্যাঙ্কের তাবড় পুলিস আধিকারিকদেরও নাজেহাল করে ছাড়ছে সাইবার অপরাধীরা। তাঁদের ছবি, নাম ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খুলছে অপরাধীরা। পরে সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। ডিআইজি বা সিনিয়র পুলিস কর্তাদেরও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ঘোষণা করতে হচ্ছে, আমার নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। প্লিজ এটা ইগনোর করুন। রিপোর্ট করে সহযোগিতা করুন। তা দেখে অনেকেই বলছেন, সাইবার অপরাধীরা যদি এভাবে আইনের রক্ষাকর্তাদের ঘোল খাইয়ে দেয়, তাহলে আমজনতার কী হবে? দুষ্কৃতীরা গ্রেপ্তার না হওয়াতেই তাঁরা এখন কাউকে পরোয়া করছে না। কয়েকজন পুলিস সুপারের ছবি এবং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেও তারা প্রতরণা করেছে। সেই কারণে অনেক পুলিস কর্তা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ব্যবহার করছেন না।
ডিআইজি কঙ্কর প্রসাদ বারুই দক্ষ পুলিস কর্তা হিসেবেই পরিচিত। তাঁর নামে অতীতেও নকল অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছিল। এখন আবার আরও দু’টি ফেক অ্যাকাউন্ট সাইবার অপরাধীরা তৈরি করেছে। ডিআইজি পদমর্যাদার ওই পুলিস আধিকারিক সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্ক করে বলেছেন, প্রতারকরা আমার নাম এবং ছবি ব্যবহার করে দু’টি অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছে। দু’টি অ্যাকাউন্ট এড়িয়ে চলবেন। কয়েক দিন আগে আর এক ডিআইজি পদমর্যাদার পুলিস আধিকারিকের ছবি এবং নাম ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। প্রতারকরা নকল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ওই পুলিস আধিকারিকদের পরিচিতদের কাছে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছে। অনেকে না জেনে তা অ্যাক্সেপ্ট করছেন। বেশ কিছুক্ষণ চ্যাট করার পর প্রতারকরা টাকা চাইছে। চ্যাটে লেখা হচ্ছে, আমার এক আত্মীয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পাঁচ হাজার টাকা পাঠান। আপনাকে কিছুক্ষণের মধ্যে টাকা ফেরৎ দেব। আসলে এখনই আমার টাকা দরকার। ওয়ালেট কাজ করছে না। সেই কারণেই সহযোগিতা চাইছি। ডিআইজি বা এসপি পদমর্যাদার পুলিস অধিকারিক এমন মেসেজ পাঠানোয় অনেকে অবাক হচ্ছেন। কেউ আবার বিশ্বাস করে টাকা পাঠাচ্ছেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইবার অপরাধীরা ভিনরাজ্যে বসে প্রতরণা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ভুয়ো ইমেল ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলছে। মোবাইলে ব্যবহার করা সিমকার্ডও অন্যের। সেই কারণে প্রতারকদের কাছে পৌঁছতে তাবড় পুলিস কর্তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, সাইবার অপরাধীরা শুধু পুলিস আধিকারিক নয়, অন্যান্য পেশার বড় কর্তাদেরও টার্গেট করেছে। সমাজে যাঁদের গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদের ছবি এবং নাম ব্যবহার করে প্রতরণা করা খুব সহজ। পরিচিতরা তাঁদের বিশ্বাস করে। তাঁরা কোনওভাবেই প্রতরণা করতে পারে না। এমন বিশ্বাস তাঁদের রয়েছে। সেই সুযোগটাকেই সাইবার প্রতারকরা কাজে লাগাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতারকরা অধরা থেকে যাচ্ছে। পরিচিতদের রিপোর্ট করে অ্যাকাউন্ট বন্ধে সহযোগিতা করার জন্য তাবড় পুলিস কর্তারা আহ্বান জানাচ্ছেন।