ফ্রান্স- ১ : প্যারাগুয়ে- ০
ফ্রান্স- ১ : প্যারাগুয়ে- ০
জয়ন্ত সেন: ‘ফুটবল মাঠ, নাকি কুস্তির আখড়া!’ বুঝতে একটু সময় লেগেছিল। তবে প্যারাগুয়ে যে এমন গা জোয়ারি ফুটবল খেলবে— সেটাই প্রত্যাশিত। কারণ এমবাপে-ডেম্বেলে-ওলিসে সমৃদ্ধ বিধ্বংসী ফ্রান্সকে আটকানোর জন্য বিকল্প কোনো যোগ্যতা তাদের ছিল না। ৬৯ মিনিট পর্যন্ত সেই কৌশলে সফল প্যারাগুয়ে কোচ গুস্তাভো আলফারো। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁর ঝুলিতে অস্ত্রের অভাব নেই। বারকোলার পরিবর্তে ডিসেরে ডুয়ে নামতেই বাজিমাত। মাঠে নামার দশ মিনিটের মধ্যেই তরুণ উইঙ্গার আদায় করল পেনাল্টি। ৭০ মিনিটে স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদে ভুল হয়নি এমবাপের। প্যারাগুয়ের বল প্রদর্শনের জবাব দক্ষতার মাধ্যমে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স।
জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান বোধ হয় এখন বাল্টিক সাগরের বিচে বসে আপশোস করছেন। ‘ইস, এমন আক্রমণভাগ যদি আমার হাতেও থাকত, চাকরি খোয়াতে হতো না।’ রাউন্ড অব ৩২-তে এই প্যারাগুয়েই তো ছিটকে দিয়েছিল জার্মানিকে। সেদিনের মতো শনিবারও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক ফর্মেশনে (৫-৪-১) দল নামিয়েছিল লাতিন আমেরিকার দেশটি। রক্ষণ জমাট রেখে প্রতি-আক্রমণে গোল তুলে নেওয়াই কৌশল কোচ গুস্তাভোর। উলটোদিকে, ফ্রান্স খেলেছে অল-আউট অ্যাটাকিং ফর্মেশনে (৪-২-৩-১)। সামনে এমবাপে-ডেম্বেলে-ওলিসে-বারকোলার ক্ষুরধার আক্রমণ। মাঝমাঠে আলাদা করে র্যাবিয়টের কথা বলব। ছেলেটা ডিফেন্স ও আক্রমণের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজটা দারুণভাবে করে। ৭৫ শতাংশের বেশি বল পজেশন রেখে একচ্ছত্র আধিপত্যও দেখায় তারা। কিন্তু প্যারাগুয়ের মন্ত্র ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচাগ্র মেদিনী।’ গুস্তাভো-ওমররা যখন দক্ষতায় পারল না, তখন বেছে নিল মারামারির পথ। এমবাপে-ডেম্বেলেদের সঙ্গে একাধিক বার ঝালেমায় জড়াল প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা। তবে শেষ পর্যন্ত ডিসেরে ডুয়েই খোলে লকগেট। তার আদায় করা পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফের শীর্ষে এমবাপে। চলতি আসরে এটা তার সপ্তম গোল। বাকি সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করতেই পারত ফ্রান্স। তবে এমবাপে ও মানু কোনের শট দুরন্ত দক্ষতায় রুখে দেয় প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই এমবাপেদের উত্তেজিত সেলিব্রেশনেই বোঝা গেল, কতখানি স্বস্তি পেয়েছে ওরা। প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি ফরাসি ব্রিগেড। এই কষ্টার্জিত জয়ে ওদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে। পাশাপাশি এটাও সত্যি, প্যারাগুয়ে দেখিয়ে দিল, জমাট রক্ষণ এমবাপেদের কালঘাম ছুটিয়ে দিতে পারে। কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। গত বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনালে এই আটলাসের সিংহদের হারিয়েছিল ফ্রান্স। এবার বদলা নিতে মুখিয়ে হাকিমিরা।