


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: হাতে গ্লাভস, মুখে গার্ড। এমন বেশেই বক্সিং রিংয়ে লড়াই করেন বক্সাররা। আর রিংয়ের বাইরে থেকে পাঞ্চ, ফুটওয়ার্ক ও রক্ষণাত্মক কৌশল বাতলে দেন ট্রেনার বা কোচরা। শিলিগুড়ি ও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধের ময়দানটাও অনেকটা বক্সিংয়ের লড়াইয়ের মতো। দুই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির চার প্রার্থীর চার নির্বাচনি এজেন্ট ‘বক্সিং কোচের’ ভূমিকায়। তাঁদের কেউ সর্বক্ষণ ঠান্ডা মাথায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রার্থীকে পরামর্শ দিচ্ছেন। আবার কেউ দিনভর ময়দানে চক্কর কাটছেন। একথায় তাঁরা আদা-জল খেয়ে ময়দানে নেমেছেন।
শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের মধ্যে ‘হেভিওয়েট’ তৃণমূলের গৌতম দেব। এখানে তাঁর নির্বাচনি এজেন্ট কুন্তল রায়। তিনি পুরসভার কাউন্সিলার। ছাত্র ও যুব সংগঠনের দায়িত্ব সামলানোর পর তিনি তৃণমূলের জেলা কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। বর্তমানে দলের শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটরও। তাঁর বয়স অল্প। বলিষ্ট চেহারা। দলে তিনি ‘কুলম্যান’ হিসাবে পরিচিত।
তৃণমূল সূত্রের খবর, বিগত দু’মাস ধরে প্রার্থীর হয়ে ময়দানে ঘুঁটি সাজিয়েছেন কুন্তল। ছাত্র, যুব, মহিলা, শ্রমিক, সরকারি কর্মী, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রার্থীকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। নির্বাচনি প্রচার, জনসভা, পদযাত্রা সমস্ত বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিচ্ছেন। বিরোধী শিবিরের দুর্বল স্থান চিহ্নিত করছেন। সুযোগ বুঝেই ঠুকছেন অভিযোগ। প্রার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, প্রচারের খরচ তদারকি করছেন। কুন্তল বলেন, আমি এজেন্ট হলেও গৌতমদা আমাদের অভিভাবক। তাঁর জন্য মাটি কামড়ে ময়দানে পড়ে আছি। এবার এখানে আমাদের অভিভাবকই শেষ হাসি হাসবেন।
এই কেন্দ্রের আরএক হেভিওয়েট প্রার্থী বিজেপির শংকর ঘোষ। তিনি বিদায়ী বিধায়ক। তাঁর নিবাচনি এজেন্ট শিলিগুড়ি পুরসভার বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন। শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। একদা তিনি ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেস করতেন। ২০১৪ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে শামিল হন। তিনি পদ্ম শিবিরে সিরিয়াস, লড়াকু ও কৌশলী নেতা হিসাবে পরিচিত।
বিজেপি সূত্রের খবর, দিনের অধিকাংশ সময় হিলকার্ট রোডে প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয়ে বসছেন অমিত। সেখান থেকে ফোনে ও ই-মেলে বিভিন্ন ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি হিসাবশাস্ত্রের ছাত্র। তাই প্রার্থী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও নির্বাচনি খরচের কাজ তদারকি করছেন। আবার প্রার্থীর সঙ্গে ঘুরে ভোট প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, এবার এক ইঞ্চিও জমি ছাড়া হবে না তৃণমূলকে। গত বিধানসভা ভোটের লিড বাড়ানো এবার টার্গেট।
এদিকে, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী শংকর মালাকারের নির্বাচনি এজেন্ট সুজিত দাস। তিনি পেশায় শিক্ষক। আঠারোখাইয়ে তাঁর বাড়ি। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, দার্জিলিং জেলা তো বটেই উত্তরবঙ্গের বর্ষীয়ান নেতা শংকরদা। তাঁর এজেন্ট হিসাবে ময়দানে নেমেই লড়াই করছি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
এখানে বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের নির্বাচনি এজেন্ট নিখিল রায়। বাগডোগরা তাঁর বাড়ি। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, নির্বাচনি এজেন্ট হিসাবে যা যা করা দরকার, তাই করছি।