নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিকিৎসার অবহেলায় তরুণ ক্রিকেটার রজনীশ প্যাটেলের মৃত্যু অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা দীর্ঘ ২৩ বছর পর নিষ্পত্তি হল। সেই মামলায় প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত চার চিকিৎসককে বেকসুর খালাস দিল আদালত। সম্প্রতি আলিপুর আদালত জামিনে থাকা অভিযুক্তদের মামলা থেকে রেহাই দেয়। মামলার প্রবীণ বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি নবকুমার ঘোষ বলেন, ‘মামলার রায়ের নথি খতিয়ে না দেখে এনিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।’ মৃত ক্রিকেটারের বাবা মনোজ ও মা মুন্নি প্যাটেল শুক্রবার বলেন, ‘নিম্ন আদালতের রায় নিয়ে আমরা খুশি নই। উচ্চ কোর্টে যাওয়ার বিষয়ে আমরা প্রয়োজনে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ নেব। ছেলেকে হারিয়ে পাথর হয়ে গিয়েছি। ছেলের ছবি আকড়ে আমরা স্বামী‑স্ত্রী বেঁচে আছি। আজও বিশ্বাস করতে পারি না, ছেলে আমাদের মাঝে নেই।’
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তরুণ ক্রিকেটার রজনীশ প্যাটেল খেলতে গিয়ে জখম হয়েছিল। তাঁর বা পায়ে গুরুতর চোট লাগে। ভরতি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে কয়েকবার তাঁর অপারেশন হয়। ওই বছরের জুন মাসে তাঁর মৃত্যু হয়। রজনীশের পরিবারের তরফে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয় ভবানীপুর থানায়। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে লালবাজার। তদন্ত শেষ করে পুলিশ আলিপুর কোর্টে চার্জশিট দেয়। চার্জ গঠন করে শুরু হয় মামলার বিচার। শুনানি শুরু কালে মৃত্যু হয় এক অভিযুক্ত চিকিৎসকের। নানা আইনি গেরোয় মামলার শুনানি দীর্ঘায়িত হয়। ‘ন্যায় বিচার’ পেতে কোর্টের দরজায় বছরের পর বছর ঘুরতে থাকেন প্যাটেল দম্পতি। অবশেষে মামলার রায় ঘোষিত হল। মুক্তিপ্রাপ্ত এক চিকিৎসককের কৌঁসুলি অমিতাভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘চিকিৎসকের অবহেলায় যে ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছিল, তা কোনোভাবেই কোর্টে প্রমাণিত হয়নি। ফলে আদালত প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের মামলা থেকে মুক্তি দিয়েছে।’