Bartaman Logo
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিটং হোমস্টেতে বার-বি-কিউয়ের আগুনে নববধূর ঝলসে যাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার চার

কার্শিয়াংয়ের সিটংয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে বার-বি-কিউয়ের আগুনে চোপড়ার নববধূ নিকিতা সাহার ঝলসে যাওয়ার ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

সিটং হোমস্টেতে বার-বি-কিউয়ের আগুনে নববধূর ঝলসে যাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার চার
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: কার্শিয়াংয়ের সিটংয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে বার-বি-কিউয়ের আগুনে চোপড়ার নববধূ নিকিতা সাহার ঝলসে যাওয়ার ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতরা হল হোমস্টের মালিক নেহাল আইরেন, দেখভালের দায়িত্বে থাকা পবন কুমার আগরওয়াল, কর্মী দীপেন লামা এবং শ্রমিক নাসির উদ্দিন। অগ্নিদগ্ধ বধূর স্বামী সৌভিক দাসের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯, ১১৮(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এরমধ্যে ১০৯ ধারা হত্যার চেষ্টার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

Advertisement

শনিবার চার অভিযুক্তকে কার্শিয়াং মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে তাঁদের তরফে জামিনের আবেদন জানানো হয়। তবে সেই আবেদন খারিজ করে চার দিনের হেপাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ফের তাদেরকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর মধুচন্দ্রিমায় সিটংয়ের ওই হোমস্টেতে উঠেছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার দম্পতি সৌভিক দাস ও নিকিতা দাস। 
দু’মাস আগেই তাঁদের বিয়ে হয়েছে। সন্ধ্যায় বার-বি-কিউ চলাকালীন আঁচ বাড়াতে তেল ঢালার সময় আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিকিতার গায়ে আগুন লেগে যায়। শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে যায় বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে সৌভিকের হাতও পুড়ে যায়। বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিকিতা। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে পরিবার পরিজনরা।
সৌভিকের অভিযোগ, বার-বি-কিউয়ের আগুনের আঁচ বাড়ানোর সময় অদক্ষভাবে দাহ্য তরল ঢালার ফলেই আচমকা আগুনের শিখা বেড়ে যায় এবং তাঁর স্ত্রী অগ্নিদগ্ধ হন। ঘটনার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয় বলেও অভিযোগ তাঁর। সৌভিকের দাবি, বর্তমানে নিকিতার কথা বলার শক্তিও ধীরে ধীরে কমছে। চিকিৎসকরা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন। আমরা খুবই উদ্বেগের মধ্যে আছি।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোমস্টে কর্তৃপক্ষ। মালিক নেহাল আইরানের দাবি, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও দম্পতি আগুনের কাছে বসেছিলেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আগুনে কিছু ঢালতে যাকে দেখা যাচ্ছে সেই তৃতীয় ব্যক্তি হোমস্টের কর্মী নন। ওই ব্যক্তি দম্পতির ডাকে এসেছিলেন বলেও দাবি হোমস্টে কর্তৃপক্ষের। নিকিতা নাইলনের পোশাক পরেছিলেন বলেও তাদের তরফে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ইতিমধ্যেই তদন্তের আওতায় নিয়েছে পুলিশ। কার বক্তব্য কতটা সত্য, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কার্শিয়াংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিন্দ্য সুন্দর ভট্টাচার্য বলেন, ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে নিকিতার শারীরিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বামী সৈভিক বলেন,  রবিবার ঘটনার দিন যেভাবে অল্প অল্প কথা বলছিল সেটা এখন কমে এসেছে।  ডাক্তাররা বলছেন সময় লাগবে। এখানে খানিকটা সুস্থ না হয়ে উঠলে তাকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা সম্ভব নয়। সে সময় লাগুক কিন্তু ও সুস্থ হয়ে উঠুক। এখন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার  নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ