Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডেটিং অ্যাপের নামে প্রতারণা, কসবা থেকে গ্রেপ্তার চারজন

কসবায় বাড়ি ভাড়া করে ডেটিং অ্যাপের নামে চলছিল প্রতারণা চক্র। এআই ব্যবহার করে মহিলাদের গলায় ফোন করা হতো তরুণদের।

ডেটিং অ্যাপের নামে প্রতারণা, কসবা থেকে গ্রেপ্তার চারজন
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবায় বাড়ি ভাড়া করে ডেটিং অ্যাপের নামে চলছিল প্রতারণা চক্র। এআই ব্যবহার করে মহিলাদের গলায় ফোন করা হতো তরুণদের। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে চার প্রতারককে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক মোবাইল সহ বিভিন্ন সামগ্রী। মিলেছে লেনদেনের নথি। যে সমস্ত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারকদের কাছে টাকা আসত, সেগুলি ফ্রিজ করার জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হচ্ছে।

Advertisement

ডেটিং অ্যাপের ফাঁদে পড়ে কসবায় কিছুদিন আগে খুন হন এক যুবক। গ্রেপ্তার করা হয় এক মহিলা সহ দু’জনকে। তারপর ডেটিং অ্যাপ নিয়ে একাধিক অভিযান চালায় লালবাজার। বন্ধ হয় একাধিক ডেটিং সংস্থার অফিস। কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার কসবা, তিলজলা, যাদবপুর সহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে ডেটিং অ্যাপের অফিস খোলা হয়েছে। সেখান থেকেই চলছে প্রতারণা। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে বন্ধুত্ব পাতানোর জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। সেখানে লেখা থাকছে ফোন নম্বর। তা দেখে কেউ যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর মোটা টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেটশন করাচ্ছে প্রতারকরা। বন্ধুত্ব পাতাতে আগ্রহী ব্যক্তিকে মোবাইল নম্বর দিচ্ছে তরুণীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। ফোন করলে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতিতে যুক্ত ওই যুবকরাই মহিলার কণ্ঠস্বরে কথা বলছেন। ফোন করা ব্যক্তিকে বলা হচ্ছে, দেখা করতে চাইলে বা গভীর রাত পর্যন্ত  কথা বলতে আগ্রহী হলে বাড়তি টাকা দিতে হবে। অনেকেই টাকা দিয়ে বসছেন। কিন্তু তাঁরা কেউই তরুণীদের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। উল্টে বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
মধ্য কলকাতার এক যুবক এমন ডেটিং অ্যাপের ফাঁদে পড়ে লক্ষাধিক টাকা খোয়ান। তিনি লালবাজারে সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু হয়।
তদন্তে নেমে অভিযোগকারীর লেনদেনের নথি সংগ্রহ করেন গোয়েন্দারা। সেখান থেকে যে যে অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, সেটি বের করা হয়। অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে প্রতারকদের মোবাইল নম্বর হাতে আসে পুলিশের। জানা যায়, ভাড়ার অ্যাকাউন্টগুলিতে জালিয়াতরা নিজেদের মোবাইল নম্বর যুক্ত করেছে। কসবা লাগোয়া বিভিন্ন এটিএম থেকে টাকা তোলা হচ্ছে। মোবাইলের সূত্রে জানা যায়, অফিসটি রয়েছে কসবা এলাকায়। এরপরই গোয়েন্দা বিভাগের টিম মঙ্গলবার রাতে সেখানে হানা দিয়ে চার প্রতারককে গ্রেপ্তার করে। তাদের জেরা করে পুলিশ জেনেছে, বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই প্রতারণা ব্যবসা চলছিল। কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়েছে তারা। চক্রে আর কারা কারা রয়েছে, ধৃতদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ