


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বামেদের প্রার্থী নিয়ে জলপাইগুড়িতে শরিকি কোন্দল তুঙ্গে। জলপাইগুড়ি কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী প্রত্যাহার করা না হলে জেলায় সব আসনে আলাদাভাবে লড়াইয়ের হুমকি ফরওয়ার্ড ব্লকের। মঙ্গলবার বৈঠকের পর ফব’র জেলা নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জলপাইগুড়ি আসনটি তাদের। ১৯৭৭ সাল থেকে এখানে বামফ্রন্টগতভাবে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। কিন্তু এবার একতরফাভাবে সিপিএম এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। যা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে নারাজ।
ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলার সহ সভাপতি অমল গোস্বামী বলেন, আমরা ৭২ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে জলপাইগুড়ি আসনে সিপিএমের প্রার্থী প্রত্যাহার করে ফ্রন্টের তরফে আমাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে হবে। আর তা যদি না হয়, সেক্ষেত্রে জেলার সাতটি বিধানসভা আসনেই আমরা আলাদাভাবে প্রার্থী দেব। এবং তাঁরা ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতীকেই ভোটে লড়াই করবেন। সেইসঙ্গে জলপাইগুড়ি আসনে সিপিএমের প্রার্থী প্রত্যাহার না হলে দল ছাড়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফব কর্মীরা। এনিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে নারাজ সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র। তিনি বলেন, বামফ্রন্টগতভাবেই প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে। এনিয়ে আমার কিছু বলার নেই।
জলপাইগুড়ি আসনে বামফ্রন্টের তরফে সিপিএমের দেবরাজ বর্মনকে প্রার্থী করা হয়েছে। নাম ঘোষণার পরই তিনি দেওয়াল লিখনের মধ্যে দিয়ে ভোটের ময়দানে নেমে পড়েন। এদিন শহর লাগোয়া করলাভ্যালি চা বাগানে প্রচার করেন দেবরাজ। কিন্তু তাঁকে ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে কোনোমতেই মানতে রাজি নয় ফরওয়ার্ড ব্লক। এনিয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে রীতিমতো তোপ দেগেছে তারা। যুব লিগের জেলা সভাপতি তথা ফব’র জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পিনাকীরঞ্জন রায় বলেন, আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে, এই কারণ দেখিয়ে জলপাইগুড়ি আসনে সিপিএমের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, দু’দলই তো শূন্য। তাহলে কোন মাপকাঠিতে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল এবং সিপিএম সবল, এটা ঠিক হল?
ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর আরএক সদস্য মিহির সেনগুপ্ত বলেন, সিপিএমের এই ‘দাদাগিরি’ কোনোমতেই মেনে নেওয়া হবে না। জলপাইগুড়ি আসনে ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বরাবর আমাদের প্রার্থী লড়াই করে এসেছেন। এই আসন থেকে ফব প্রার্থী নির্মল বসু জিতে বিধায়ক ও মন্ত্রী হয়েছেন। বর্তমানে দলের রাজ্য সভাপতি গোবিন্দ রায় একসময় জলপাইগুড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। সুতরাং এই আসন আমরা সিপিএমকে ছাড়ব না।
ফব’র জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রতীম দে বলেন, জোটের কারণে দু’বার জলপাইগুড়ি আসনে আমরা কংগ্রেসের প্রার্থীকে মেনে নিয়েছি। কিন্তু এবার জোট নেই। ফলে এই কেন্দ্র থেকে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতীকেই প্রার্থী ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বামফ্রন্ট যদি তা মেনে নেয় ভালো। নতুবা আমরা পৃথকভাবে প্রার্থী দেব। এনিয়ে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব জেলা বামফ্রন্টের বৈঠকেও যাবে না।