নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা আলিপুরদুয়ার: রাজ্য সরকার বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নিতেই সুর নরম করলেন অনন্ত মহারাজ। নেতাজিকে নিয়ে তাঁর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়, অনন্ত মহারাজকে ক্ষমা চাইতে হবে, দাবি ফরওয়ার্ড ব্লকের।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা আলিপুরদুয়ার: রাজ্য সরকার বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নিতেই সুর নরম করলেন অনন্ত মহারাজ। নেতাজিকে নিয়ে তাঁর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়, অনন্ত মহারাজকে ক্ষমা চাইতে হবে, দাবি ফরওয়ার্ড ব্লকের।
এদিকে, নেতাজি সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কঠোর মনোভাব নিতেই শুরু হল পুলিশি তদন্ত। ফরওয়ার্ড ব্লকের কোচবিহার জেলা কমিটির সদস্য গোপাল দে নগেন রায়ের নামে কোতোয়ালি থানায় এফআইআর করেন। থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশ নগেন রায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। নবান্নর নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত নেতাজিকে অপমান করার ইস্যুতে অনন্ত মহারাজের কোচবিহারের চার অনুগামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার রাতে ফালাকাটা থানার গুয়াবরনগরের এক যুবকেও পুলিশ একই অভিযোগে গ্রেপ্তার কেছে।
এদিকে, পুলিশি গ্রেপ্তারির মাঝেই স্বঘোষিত মহারাজ অনন্তর একটি ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে। সতেরো সেকেন্ডের সেই ভিডিয়োতে অনন্তকে নেতাজি সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি পড়তে শোনা যায়। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। অনন্ত মহারাজ ওই ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন তারজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
কিন্তু দুঃখ প্রকাশ করলেই কি ক্ষত মিটে যায়? একজন দেশনায়ককে চূড়ান্ত অপমান করার পর দুঃখ প্রকাশ করলেই রেহাই পাওয়া যায়? প্রশ্ন নানা মহলের। অনন্ত মহারাজের গ্রেপ্তার ও রাজ্যসভার এমপি পদ বাতিলের দাবি তুলে শুক্রবার সরব হয় সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লক। দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি দীপক সরকার বলেন, দুঃখ প্রকাশ করাটা যথেষ্ট নয়। উনি বিশাল অন্যায় করেছেন। নগেন রায়ের বেআইনি সম্পত্তির তদন্ত চাই আমরা। আমরা ওঁর গ্রেপ্তারির দাবি করছি। একইসঙ্গে তাঁর সাংসদ পদ বাতিলেরও দাবি রাখছি।
নেতাজিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর পোস্ট করার জন্য ফালাকাটা থানার গুয়াবরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়চাঁদপুর গ্রাম থেকে পুলিশ পবিত্র বর্মন নামে এক যুবককে পাকড়াও করে। ধৃতের বাড়ি জয়চাঁদপুর গ্রামেই। নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট করায় পবিত্রর বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি ৭ আগস্ট আলিপুরদুয়ারের সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তারপরেই তদন্তে নেমে পুলিশ জয়চাঁদপুর থেকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতকুমার শাহ বলেন, শুধু নেতাজি নয়। দেশের যে কোনো মনীষীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর পোস্ট করলেই গ্রেপ্তার করা হবে।