Bartaman Logo
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্রীঘরে সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি, পুলিশের তৎপরতায় ‘ডিম থেরাপি’ থেকে রক্ষা

ত্রিপল চুরির মামলায় সিউড়ি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি প্রশান্তকুমার সাধু ওরফে ঝোকন।

শ্রীঘরে সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি, পুলিশের তৎপরতায় ‘ডিম থেরাপি’ থেকে রক্ষা
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: ত্রিপল চুরির মামলায় সিউড়ি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি প্রশান্তকুমার সাধু ওরফে ঝোকন। শনিবার এই তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে চোর চোর স্লোগান দেন বিজেপি কর্মীরা। এদিন তৃণমূল নেতাকে ছোড়ার জন্য হাতে ডিম নিয়ে আদালত চত্বরে হাজির ছিলেন বিজেপি কর্মীরা। তবে পুলিশের কড়া পাহারায় এদিনের মতো ‘ডিম-থেরাপি’ থেকে তিনি রক্ষা পান। পুলিশ কেন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতাকে এত নিরাপত্তা দিচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। যদিও পুলিশের এক শীর্ষকর্তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যা করার তা করা হয়েছে।

Advertisement

একসময় সাঁইথিয়া এলাকায় প্রশান্তর প্রবল দাপট ছিল। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা। বাধ্য হয়ে সেদিনই তিনি পদত্যাগ করেন। একটি সরকারি গোডাউন থেকে ত্রিপল সরানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। শনিবার সেই ত্রিপল চুরির মামলাতেই সিউড়ি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন তিনি। খবর পেয়েই আদালত চত্বরে জড়ো হন বিজেপি কর্মীরা। তাঁকে ঘিরে চোর চোর স্লোগানও ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করায় আদালতের নির্দেশে সক্রিয় হয় পুলিশ। আদালত চত্বর থেকে বিজেপি কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে ওই তৃণমূল নেতাকে কার্যত উদ্ধার করে নিরাপদে ভিতরে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা। নিজেদের ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা-কর্মী বলে দাবি করে তাঁরা বলেন, আমরা চোরকে চোর বলব না তো কী বলব! একজন দুর্নীতিগ্রস্তকে পুলিশ কেন এত নিরাপত্তা দেবে? তৃণমূলের জমানায় এই নেতাদের কথায় পুলিশই আমাদের চক্রান্ত করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। 
পুলিশের সৌজন্যে ডিমবৃষ্টির হাত থেকে বাঁচলেও শ্রীঘরে ঠাঁ‌ই হয়েছে প্রশান্তর। তাঁর আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, ত্রিপল চুরির ওই মামলায় তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু উচ্চ আদালতে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন আগে থেকেই খারিজ হওয়ায় বিচারক এদিন তাঁর জামিন মঞ্জুর করেননি। তাঁকে ১৪দিন জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ