


সংবাদদাতা, মানকর: কাঁকসার মলানদিঘি পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধানের সই করা শংসাপত্র ব্যবহৃত হচ্ছে সরকারি প্রকল্পে। যাতে বর্তমান সময়ের তারিখ দেওয়া রয়েছে। এমনই অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বিষয়টি নজরে আসতেই পঞ্চায়েতের তরফে প্রাক্তন প্রধানের বিরুদ্ধে কাঁকসা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রাক্তন প্রধান।
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ছিলেন পীযূষ মুখোপাধ্যায়। বর্তমান প্রধান পাকুমণি সোরেন। শুক্রবার সকালে এক ব্যক্তি মেয়ের বিয়ের জন্য রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদন করেন, তাতে দেখা যায় ওই ব্যক্তির আয়ের শংসাপত্রে বর্তমান প্রধানের বদলে আগের প্রধানের সই রয়েছে। কিন্তু, তারিখ দেওয়া রয়েছে বর্তমান বছরের। এরপরই পঞ্চায়েতের তরফে বিষয়টি কাঁকসা ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়। অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায়। পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বরূপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প রূপশ্রী। মেয়ের বিয়ের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। প্রকল্পের আবেদনের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। তখন দেখা যায়, আগের প্রধান আয়ের শংসাপত্র দিয়েছেন। আমরা ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির নির্দেশে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি। ২০২৩ সালে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়েছে। দলকে জানিয়েছি। পদে না থেকেও কীভাবে শংসাপত্র দিচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে পীযূষবাবু বলেন, আমাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য কেউ বা কারা এটা ঘটাচ্ছে। পঞ্চায়েত তদন্ত করুক। সহযোগিতা করব। দরকারে আইনের পথে যাব। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, এই ঘটনা থেকে পরিষ্কার তৃণমূল নেতারা সরকারি পদকে জমিদারি ভাবেন। প্রাক্তন প্রধান মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। এর তদন্ত হওয়া উচিত। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি জেনেছি। গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।