Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাড়ির সামনেই ঘেরাও উত্তর হাওড়ার প্রাক্তন বিধায়ক, বিক্ষোভের মুখে কান্না

উত্তর হাওড়ার প্রাক্তন বিধায়ক গৌতম চৌধুরী বিক্ষোভের মুখে কেঁদে ফেলেন। স্থানীয় সমস্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তেজনা। বিস্তারিত পড়ুন।

বাড়ির সামনেই ঘেরাও উত্তর হাওড়ার  প্রাক্তন বিধায়ক, বিক্ষোভের মুখে কান্না
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাড়ির সামনে বিক্ষোভের মুখে পড়তেই রীতিমতো অসহায় অবস্থায় কেঁদে ফেললেন উত্তর হাওড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। সোমবার রাতে সালকিয়ার বাঁধাঘাট এলাকায় তাঁর আবাসনের নীচে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রায় তিন মিনিটের এই দৃশ্য ভিডিয়ো আকারে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও ‘বর্তমান’ ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি।

Advertisement

ভিডিওতে দেখা যায়, আবাসনের নীচে প্রাক্তন বিধায়ককে ঘিরে ধরেছেন এলাকাবাসীর একাংশ। স্থানীয় নানা সমস্যা, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং ব্যক্তিগত অভিযোগ তুলে প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ির নীচে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার মাকে তুমি মারধর করেছ। তার শাস্তি তোমায় পেতে হবে। আমি থানায় অভিযোগ করব।’ বিক্ষোভকারীদের একাংশ আবার ‘তোমাকে জেলে যেতে হবে’ বলেও স্লোগান তোলেন। এই পরিস্থিতিতে গৌতম চৌধুরীকে হাতজোড় করে কাকুতিমিনতি করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘আমি আপনার মাকে চিনি না। আমি কেন তাঁকে মারতে যাব? যদি কখনও অসম্মান করে থাকি, তার জন্য ক্ষমা চাইছি। আপনার মাকে ডাকুন, আমি তাঁর কাছেও ক্ষমা চাইব।’ পরে কান্নাভেজা গলায় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘তোরা কি আমাদের থাকতে দিবি না? গোটা উত্তর হাওড়া জানে আমি কখনও কারও ক্ষতি করিনি। আমরা হেরে গিয়েছি। কিন্তু যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা মানুষের জন্য ভালো কাজ করুক। এভাবে এত অপমান মানা যায় না।’
ঘটনার পর এদিন গৌতম চৌধুরী বলেন, ‘আমি আজ পর্যন্ত উত্তর হাওড়ার কোনো মানুষের ক্ষতি করিনি। আমি একজন পরাজিত প্রার্থী। প্রতিদিন রাতে আমার বাড়ির সামনে এসে কিছু মানুষ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। আমার স্ত্রী, ছেলে-মেয়েরা পর্যন্ত বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারছে না। শাসকদলের কাছে আমার আবেদন, এই ধরনের সংস্কৃতি বন্ধ করা হোক। এগুলি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ভুল শিক্ষা দেবে।’
পাশাপাশি নাম না করে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কেও নিশানা করেন তিনি। গৌতমের বক্তব্য, ‘দল হারার পর জার্সি বদল— মানা যায় না। প্রয়োজন হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। এই সময় কর্মীদের পাশে আমাদের দাঁড়ানো উচিত। উনি তো আমাদের অভিভাবক ছিলেন। আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানো উচিত ছিল।’ এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। উত্তর হাওড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, ‘ঘটনার কথা শুনেই পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একজন প্রাক্তন বিধায়কের পক্ষে রাতের দিকে মদ্যপদের সঙ্গে বচসায় জড়ানোও শোভা পায় না। যে যেমন কর্ম করেছে, সে তেমন ফল পাবে। উত্তর হাওড়ার মানুষের যে রাগ ছিল, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ