নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গ্রিন সিটি দুর্নীতি মামলায় কেরলে ধৃত প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীকে রবিবার আরামবাগে নিয়ে আসতেই তুমুল উত্তেজনা ছড়াল। তাঁকে যে এদিন আরামবাগে নিয়ে আসা হচ্ছে সেই খবর আগেই রটে যায়। ফলে আরামবাগ থানা থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে জমায়েত করেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। তাঁরা হাতে ডিম নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্বপনবাবুর গাড়ি ঢুকতেই ‘চোর চোর’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে গৌরহাটি মোড় এলাকা। বিক্ষোভকারীরা গাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলেন। গাড়ির উপরেই চলতে থাকে ডিম বৃষ্টি। বাধ্য হয়ে পুলিশ সেখানেই গাড়ি থামায়। স্বপনবাবুকে গাড়ি থেকে নামাতেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। গাড়ি থেকে নামার সময় আরামবাগ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার স্বপনবাবুর মাথায় টুপি ও মাস্ক থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত থাকেনি। তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছুড়তে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। তারসঙ্গে ছেটানো হয় কালিও। স্বপনবাবুর জামা ছিঁড়ে যায়। সেই অবস্থায় তাঁকে পুলিশ ঘেরাটোপ করে থানায় ঢোকায়। পরে বিক্ষোভকারীরা থানার কাছাকাছি গেলে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। স্বপনবাবুর অবশ্য এদিন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিন বিক্ষোভের সময় ছিলেন বিজেপির আরামবাগ শহর এসসি মোর্চার সভাপতি সঞ্জীব হেলা। তিনি বলেন, প্রাক্তন চেয়ারম্যান গ্রিন সিটির পাশাপাশি একাধিক সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম করেছেন। বঞ্চিত হয়েছেন গরিব ও প্রকৃত প্রাপকরা। তাই তিনি এদিন জন রোষের শিকার হয়েছেন।
উল্লেখ্য, আরামবাগ পুরসভায় গ্রিন সিটি মিশনে প্রায় সাত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আরামবাগ পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন তৃণমূলের স্বপন নন্দী। সোলার প্যানেল বসানোর নামে সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ দায়ের করেছেন বর্তমান আরামবাগ পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূলেরই সমীর ভাণ্ডারি।
স্বপনবাবু সহ সাতজনের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ আগেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তাঁরা পুলিশ হেপাজতে রয়েছেন। প্রাক্তন চেয়ারম্যান পলাতক ছিলেন। গত শুক্রবার তাঁকে কেরল থেকে গ্রেপ্তার করে হুগলি গ্রামীণ পুলিশের সিট। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪ টা নাগাদ তাঁকে আরামবাগ থানায় নিয়ে আসা হয়। আজ, সোমবার তাঁকে ফের চুঁচুড়া আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। স্বপনবাবু অবশ্য এই প্রসঙ্গে আগেই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
গোঘাট-২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সাহাবুদ্দিন খানকেও তোলাবাজি, মারধরের অভিযোগে ধূপগুড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার তাঁকে আরামবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তবে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে গোঘাট থানা চত্বরেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু পুলিশ রুখে দেয়। প্রিজন ভ্যানে ছোড়া হয় ডিম। পাশাপাশি বাইরে বিজেপি কর্মীদের পাশাপাশি অনেকেই ‘চোর’ স্লোগানও দিতে থাকেন।
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গোঘাট-১ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সঞ্জয় খানকে। আজ, সোমবার ধৃতকে আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।