নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সরকারি ত্রাণসামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত এবং পাচারের অভিযোগ উঠল নদিয়ার প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কৃষ্ণনগর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে কৃষ্ণনগর শহরের কাঠুরিয়াপাড়া এলাকায় তাঁর বাড়ি থেকে ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি সহ বিভিন্ন সরকারি সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি ধরে ফেলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল জনরোষের মুখে পড়তে হয় প্রাক্তন মন্ত্রীকে। বাড়ির সামনে তুমুল বিক্ষোভ চলে। অভিযোগ, একসময় উত্তেজিত জনতা বাড়ির ভিতরে ঢুকেও বিক্ষোভ দেখায়। ভাঙচুর, ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোতোয়ালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ কোনওরকমে প্রাক্তন মন্ত্রীকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে আটক করা হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাঠুরিয়াপাড়ায় উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী মজুত ছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, কম্বল, শাড়ি, ত্রিপল সহ নানা সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয়ের ভিতরে পড়ে থাকলেও তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি সামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগ সামনে আসার পর সেগুলি অন্যত্র সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ির সামনে একটি বড় লরি দাঁড় করানো হয়। ত্রিপল ও অন্যান্য সামগ্রী সেই লরিতে তোলাও শুরু হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও বিক্ষোভে সামিল হন। বিক্ষোভকারীরা উজ্জ্বল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন। অভিযোগ, এক সময় উজ্জ্বল বিশ্বাস বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও তেতে ওঠে। তখনই তাঁকে লক্ষ্য ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসে ডিম।
পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগে প্রাক্তন মন্ত্রীর সাফাই, ‘ইদের সময় এই সামগ্রী এসেছিল। সব বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। কারণ তার পরেই ভোট চলে আসে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। মঙ্গলবার গাড়িতে করে সেগুলি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।’ এদিকে, এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দেবাশিস বিশ্বাস। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ২টা ৫০ মিনিট নাগাদ কাঠুরিয়াপাড়া দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি একটি লরিতে ত্রিপল, কম্বল, সাদা থান শাড়ি সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী তোলা হতে দেখেন।
দেবাশিসের আরও অভিযোগ, তিনি প্রতিবাদ জানালে উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং তাঁর বাড়িতে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি কোতোয়ালি থানায় ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। অভিযোগকারীর দাবি, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্যাসের কালোবাজারি, জমি দখল এবং সরকারি অর্থ তছরুপের মতো অভিযোগও উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
বিজেপির আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস বলেন, ‘দেবাশিস মণ্ডল বাড়ি ফেরার পথে দেখতে পান প্রচুর ত্রাণসামগ্রী লরিতে তোলা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে সেগুলি পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।