নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লাইন যেন শেষ হচ্ছে না। কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলার, বরো চেয়ারম্যানের পর এবার শ্রীঘরে ঢুকলেন আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলার তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ। একুশ সালে বিধানসভা ভোটের পর খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল কলকাতা পুরসভার সদ্য প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দারকে। বুধবার দুপুরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ। তার জেরে থানার সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় থানার গারদে তাঁকে রাখার সাহস পায়নি কলকাতা পুলিশ। উত্তেজিত জনতার রোষ থেকে বাঁচাতে কার্যত বাধ্য হয়েই স্বপন সমাদ্দারকে পাঠানো হয় লালবাজারের সেন্ট্রাল লক-আপে। আজ, বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে অভিযুক্তকে পেশ করতে পারে পুলিশ। তাঁকে হেপাজতে নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আদালতের কাছে আরজি জানানো হবে বলে লালবাজার সূত্রে খবর।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর বেলেঘাটায় খুন হন বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার। সেই ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তথা ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার স্বপন সমাদ্দারের। তৃণমূল আমলে ওই অভিযোগ হালে বিশেষ পানি পায়নি। অভিযোগ, ঠিক এক বছর পর ২০২২ সালের ২ মে স্থানীয় এক বৃদ্ধের বাড়িতে তাণ্ডব চালান স্বপন ও তাঁর অনুগামীরা। ওই ব্যক্তির নাম শিবশংকর সরকার। তিনি বিজেপির সমর্থক বলে পরিচিত। সরকার বদলাতেই মঙ্গলবার রাতে ২০২২ সালের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নারকেলডাঙা থানার দ্বারস্থ হন শিবশংকরবাবু। স্বপন সমাদ্দার সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, লুটপাট, ভাঙচুর, স্ত্রীর শ্লীলতাহানি সহ জামিন অযোগ্য একাধিক ধারায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বৃদ্ধ। অভিযোগপত্রে তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র তোলপাড় ও ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু তাই নয়, ব্যাপক মারধর করা হয় তাঁকে। খুন করার পরিকল্পনা নিয়েই তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, দুষ্কৃতীদের বাধা দিতে গেলে বৃদ্ধের স্ত্রীকে অশালীন ভাষায় আক্রমণের পাশাপাশি শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ পাওয়া মাত্র একদা তৃণমূলের দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে নামে কলকাতা পুলিশ। চার বছরের পুরানো ঘটনার অভিযোগে দ্রুত স্বপন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। লালবাজার জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের সন্ধান চলছে। তাঁদেরও শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে। অন্যদিকে, এদিন দুপুরে ধৃতকে থানায় ঢোকানোর সময় তিনি ‘ডিম থেরাপি’র সাক্ষী হন। থানার বাইরে স্বপন সমাদ্দারের দিকে একের পর এক ডিম উড়ে আসতে থাকে। ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ জনতা। রাতেই তাঁকে নারকেলডাঙা থানা থেকে লালবাজারে স্থানান্তরিত করা হয়।