নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান এবং সংবাদদাতা, কালনা: কালনার প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ এক সময়ে রেডিও, টিভি সারাইয়ের মিস্ত্রি ছিলেন। যা রোজগার হতো তাতে সংসার চালানো দায় ছিল। এখন অট্টালিকার মালিক। কালনা শহরে অন্যতম দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে তাঁর বিলাসবহুল বাড়ি। ভিন রাজ্য থেকে কাঠ এনে তৈরি হয়েছে দামি আসবাবপত্র। শৌচালয়েও ব্যবহার হয় ফিল্টার করা জল। বাড়ির একাধিক ঘরে এসি। তবে শুধু এই অট্টালিকাই নয়, নামে বেনামে এরকম তাঁর বহু সম্পত্তি রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। ত্রাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে কালনার এক সময়ের এই ‘জমিদারের’ প্রাসাদে পুলিশ পৌঁছে যায়। বাড়ির দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। পুলিশ ঢুকতে পারেনি। ততক্ষণে তাঁর বাড়ির সামনে জমায়েত হয়ে যায় কয়েক ’শ বাসিন্দা। ‘পল্টু চোর, পল্টু চোর’ স্লোগানে ততক্ষণে কান পাতা দায় হয়ে উঠেছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বীরপুঙ্গব রাতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। নাদনঘাট থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে তোলাবাজি, হুমকি, সরকারি সম্পত্তি লুট সহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁকে কালনা থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন কালনার বাসিন্দারা। বিক্ষোভ দেখানোর জন্য কালনা হাসপাতাল, আদালত চত্বরে অপেক্ষা করেছিল আম জনতা। তাঁকে দেখা মাত্র চোর, তোলাবাজ স্লোগান উঠতে থাকে। অনেকেই তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে। এক মহিলাকে জুতো হাতেও ছুটে যেতে দেখা যায়। পুলিশ তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে কলার ধরে গাড়িতে তোলে।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এটাই তাঁর প্রাপ্য ছিল। ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি নিজেকে রাজা ভাবতেন। খারাপ ব্যবহার করা তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়ে উঠছিল। দলের নেতাকর্মীরাও তাঁকে পছন্দ করতেন না। বিরোধীরা বলছেন, এক সময় ঘটকপাড়ায় তিনি ছোট একটি ঘরে থাকতেন। সেখানেই কয়েক কোটি টাকা খরচ করে অট্টালিকা তৈরি করেছিলেন। তার নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট ছিল। জমি কেনাবেচা থেকে টোটোর রুট চালানো, সব এই সিন্ডিকেট ঠিক করত। সরকারি কাজের বরাত পেতেও তাদের আশীর্বাদ লাগত। ঠিকাদারদেরও তাদের সন্তষ্ট করতে হতো। শহরে একটি চোখ ধাঁধানো বিয়েবাড়ির মালিক কে, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। এছাড়া কলকাতা বা অন্য রাজ্যে প্রাক্তন বিধায়কের কোনো সম্পত্তি রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত হওয়া দরকার বলে অনেকেই মনে করছেন।
কালনার বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। সব কিছুই সামনে আসবে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, মিথ্যা কেসে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দেবপ্রসাদ বাগ ওরফে পল্টুকে কালনা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁর বাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হবে। কালনায় গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ। -নিজস্ব চিত্র