ওয়াশিংটন: সমুদ্রতটে বালির উপর ঝিনুক আর পাথরের টুকরো দিয়ে লেখা রয়েছে ‘৮৬৪৭’। সম্প্রতি এই চারটি সংখ্যার ছবি পোস্ট করেছিলেন এফবিআই-র প্রাক্তন প্রধান জেমস কোমে। আর তা নিয়েই তোলপাড় আমেরিকার রাজনীতি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চাকরি গিয়েছিল কোমের। তাই রিপাবলিকানদের দাবি, বদলা নিতে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কোমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। চাপে পড়ে পোস্টটিও সরিয়ে ফেলেছেন কোমে।
কিন্তু এই ৮৬৪৭ সংখ্যাটিকে নিয়ে এত বিতর্ক কেন? আসলে আমেরিকায় ‘৮৬’ সংখ্যাটি কাউকে ছুড়ে ফেলতে বা সরিয়ে দিতে সাংকেতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। আর ‘৪৭’ সংখ্যাটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। কারণ তিনি আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট। চারটি সংখ্যা পাশাপাশি বসালে মনে হয়, কোথাও যেন ট্রাম্পকে খুন করার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। এদিকে প্রাক্তন এফবিআই কর্তা আবার ট্রাম্প বিরোধী। তাই দুইয়ে দুইয়ে চার করতে অসুবিধা হয়নি রিপাবলিকানদের। তাঁদের দাবি, এটি সরাসরি ট্রাম্পকে প্রাণে মারার হুমকি। বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই শেষমেশ মুখ খুলেছেন প্রাক্তন এফবিআই কর্তা। তিনি বলেন, ‘সমুদ্র সৈকতে হাঁটার সময় আমি কিছু ঝিনুক ও নুড়িপাথরের একটি ছবি পোস্ট করেছিলাম। ভেবেছিলাম এটি কোনও রাজনৈতিক বার্তা। কল্পনাও করতে পারিনি, এই সংখ্যাটিকে কেউ খুনের চক্রান্তের সঙ্গে জুড়ে দেবেন। আমি সমস্ত ধরনের হিংসার বিরুদ্ধে। তাই পোস্টটি সরিয়ে দিয়েছি।’
প্রথমবার পোস্টটি নজরে আনেন ট্রাম্প পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। তাঁর দাবি, এই পোস্টের মাধ্যমে আমার বাবাকে খুন করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন আধিকারিক। এনিয়ে হোমল্যান্ড সিকিওরিটি দপ্তরের (ডিএইচএস) সচিব ক্রিস্টি নোয়েম জানান, ডিএইচএস ও সিক্রেট সার্ভিস বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সেইমতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পোস্টটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা শাখার প্রধান তুলসী গাবার্ড। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ার এক জনসভায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক দুষ্কৃতী। সেবার অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন তিনি।