নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: এক তৃণমূল কর্মীকে থানার লকআপে পিটিয়ে মারার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হালিশহর। বিরজু কেয়ট নামে ওই তৃণমূল কর্মী কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার জেনি শর্মা কেয়টের স্বামী। শনিবার সকালে হালিশহর থানার লকআপ থেকে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে কল্যাণী জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতের স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সুস্থ-সবল বিরজুকে লকআপে বেধড়ক মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করার কারণেই মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। একই অভিযোগে সোচ্চার হয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন পুলিশ হেপাজতে বিচারাধীন বন্দির মৃত্যুর প্রতিবাদে সরব হয়েছে।
সূত্রের খবর, ২০২৫ সালে হুমকি ও তোলাবাজির এক মামলায় শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তৃণমূল কর্মী বিরজু কেয়ট। সেদিনই তাঁকে বারাকপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল বিরজুর। এই ঘটনায় এদিন কাঁচরাপাড়া ও হালিশহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে ছুটে যান বিরজুর স্ত্রী তথা প্রাক্তন কাউন্সিলার জেনি শর্মা ও অন্যান্যরা। জেনি বলেন, ‘আমার স্বামীকে লকআপে মারধর করার জন্যই মৃত্যু হয়েছে। দুই সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব, কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না।’ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। এদিনই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে জেনি শর্মার সঙ্গে কথা বলেন। সুবিচার চেয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার কথা জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালে চলে আসেন তৃণমূলের বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অমিত গুপ্তাসহ দলের কর্মীরা। অমিত গুপ্তার আরও অভিযোগ, ‘যে মামলায় বিরজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটির এফআইআরে ওঁর নাম ছিলই না। তাঁকে গ্রেপ্তার করে প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল অধিকারী সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য চাপ দিচ্ছিল পুলিশ। পুলিশি নির্যাতনেই ওঁর মৃত্যু হয়েছে। কান থেকে রক্ত বেরিয়ে এসেছে।’ তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন হাসপাতালে পৌঁছান। তিনি বলেন, ‘বিজেপি সরকারের মাত্র তিন মাসে আমাদের এক কর্মীর লকআপে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এর প্রতিবাদে আন্দোলন হবে। আদালতের দ্বারস্থ হব আমরা।’
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে ময়নাতদন্ত এবং ‘ম্যাজেস্ট্রিয়াল ইনকোয়েস্ট’ হয়েছে। লকআপের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেছেন এসিপি এবং ডিসিপি (নর্থ) পদমর্যাদার দুই উচ্চপদস্থ কর্তা। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার সিং বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনায় যেরকম তদন্ত দরকার, সেটাই করা হচ্ছে।’ বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলেন, ‘বিরজু কেয়ট প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। অতীতে অনেক কিছুর সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। তবে ওঁর পরিবারের যন্ত্রণা বুঝতে পারছি। আমি সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত।’