নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রোমোটারকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুরসভার এক প্রাক্তন কাউন্সিলারের ছেলে। ধৃতের নাম সম্রাট মুখোপাধ্যায়। ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার বিজন মুখোপাধ্যায়ের ছেলে এই সম্রাট। সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গিয়েছে, অমিত ঘোষ নামে এক প্রোমোটার সম্প্রতি কসবা থানায় দায়ের করা এক লিখিত অভিযোগে পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে। কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের অনুমোদিত বৈধ প্ল্যান থাকা সত্বেও কসবার বোসপুকুর এলাকায় বহুতল নির্মাণ করতে গিয়ে সম্রাট ও তাঁর দলবলকে তোলা দিতে হয়েছে। প্রোমোটারের অভিযোগ, তাঁর মাথায় রিভালভার ঠেকিয়ে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে দফায় দফায় মোট ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা তোলা আদায় করেছেন সম্রাট ও তাঁর দলবল।
উল্লেখ্য, এরাজ্যে পালা বদলের পর তোলাবাজি এবং ২০২১ সালে বিধানসভা ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে কলকাতাজুড়ে একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলার গ্রেপ্তার হয়েছেন। কসবা তল্লাট থেকে এর আগে তৃণমূলের দাপুটে প্রাক্তন বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষকেও গ্রপ্তার হতে হয়েছে। কিন্তু তোলাবাজির অভিযোগে কাউন্সিলারের পুত্র গ্রেপ্তারের ঘটনা শহরে এই প্রথম। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা অভিনবও বটে।
ওই প্রোমোটারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই গত ১৮ জুলাই সম্রাট ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি, হুমকি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সহ অস্ত্র আইনের একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। শুরু হয় তদন্ত।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের এক সূত্রের দাবি, ‘অভিযুক্ত সম্রাট মুখোপাধ্যায় ও তাঁর দলবল এতটাই বেপরোয়া ছিল যে, নগদের পাশাপাশি তোলাবাজির টাকা বিভিন্ন সময়ে চেকেও আদায় করেছেন!’ তদন্তে নেমে কসবা থানার পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছ থেকে তোলা হিসেবে ব্যবহৃত সেইসব চেকের কপি সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। যা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নথি।
এদিকে, প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য- প্রমাণ আসার পর সোমবার দুপুরে বাড়ি থেকেই অভিযুক্ত সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে কসবা থানার পুলিশ। কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, এই তোলাবাজি ঘটনায় পুলিশ প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার বিজন মুখোপাধ্যায় এবং কসবা এলাকার আরও কয়েকজন দুষ্কৃতীর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে। ছেলের গ্রেপ্তারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে, বিজন মুখোপাধ্যায়কে বারবার ফোন করা হলেও, তিনি ফোন ধরেননি।