সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: পালাবদলের পর হিংসার রাজনীতি চিত্রটা পালটাবে। এমনটাই আশা করেছিলেন সাধারণ মানুষ। তবে পরিস্থিতি যে আদৌ বদলায়নি, তার প্রমাণ দিনহাটা। সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া উদয়ন গুহের পরিবারের সদস্যদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার ‘অপরাধে’ আক্রান্ত হলেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা। ভাঙচুর চালানো হল তাঁর বাড়িতে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দিনহাটা শহরে।
ভোটের ফল প্রকাশের পরদিনই সপরিবারে দিনহাটার বাড়ি ছেড়েছিলেন উদয়ন গুহ। তারপর থেকেই তালা বন্ধ বাড়ি। উদয়ন গুহকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার দিনহাটায় নিয়ে আসে পুলিশ। শুক্রবার উদয়নের দিদিকে সঙ্গে নিয়ে দিনহাটার বাবুপাড়ার বাড়িতে আসেন উদয়নপত্নী শাশ্বতী গুহ। দীর্ঘদিন বাড়িতে কেউ না থাকায় ঘরে রান্না করার কিছু ছিল না। আর সেকথা জানতে পেরে উদয়নের বাড়িতে গিয়ে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেন দিনহাটার প্রাক্তন বিজেপি নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। তার সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতা নিতু সাহা।
দীপ্তিমানের দাবি, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়। রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা। তৃণমূলের জমানায় বর্তমান বিজেপি বিধায়ক অজয় রায়ের বাড়িতে, সিপিএম নেতা শুভ্রালক দাসের বাড়িতে, পিয়ালী দাসের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, উদয়নের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার ঘণ্টা খানেক পরেই প্রাক্তন ওই বিজেপি নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। দীপ্তিমান বলেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা। বিগত ১৫ বছরে দিনহাটার রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পূর্ণ নষ্ট করেছেন উদয়ন গুহ। তার ফল ভোগ করছেন তিনি। উনি আমারও মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। ওর কঠোরতম সাজা আমিও চাই। ওর পরিবারের তিন-চারজন দিনহাটায় ফিরেছেন। দুপুরে অভুক্ত থাকবেন। রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে কি না সেটা জেনে নিয়ে দুপুরের খাবারের পৌঁছে দিয়েছি। কিন্তু সেই খাবার দিয়ে বাড়ি ফেরার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই আমার বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী এসে আসবাসপত্র ভেঙে দিয়ে যায়। আমাকে মারধর করছে। এটা কোন ধরণের গণতন্ত্র? থানায় লিখিত অভিযোগ জানাব।
কিন্তু কারা মারধর করেছে? সরাসরি উত্তর না দিলেও দীপ্তিমানের আঙুল নব্য বিজেপির দিকেই। বললেন, কারা করেছে তো বোঝাই যাচ্ছে। যারা নতুন নতুন ক্ষমতায় এসেছে তারা ছাড়া আর কেই বা এসব করবে।
দিনহাটা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে পদক্ষেপ করা হবে।
• আক্রান্ত দীপ্তিমান। - নিজস্ব চিত্র।