নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: তোলাবাজির অভিযোগ পিছু ছাড়ছে না বিধাননগরে! পালাবদলের পর তোলাবাজির অভিযোগে প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত, প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী, রঞ্জন পোদ্দার সহ তৃণমূলের সাত কাউন্সিলার গ্রেপ্তার হয়েছেন। এবার সল্টলেকে কোটি টাকার তোলাবাজির অভিযোগ উঠল বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে সল্টলেকে বিধাননগর পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তোলাবাজি সহ ৯টি ধারায় মামলা রুজু করেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই শহরে শোরগোল পড়েছে। যদিও অভিযুক্ত কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে একাধিবার ফোন করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সল্টলেকে সি জে ব্লকে বাড়ি কৃষ্ণা চক্রবর্তীর। ওই ব্লকের একটি বাড়ি সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই এই অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক প্রবীণ ব্যক্তি বর্তমানে পর্তুগালে থাকেন। সম্পত্তি রক্ষা এবং দেখভালের জন্য তিনি একজনকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে গিয়েছেন। ওই ব্যক্তি গত ৩০ জুলাই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাড়ির মালিক পর্তুগাল থেকে কলকাতায় ফিরে সি জে ব্লকের বাড়িতেই থাকতেন। তাঁর ভাইপোর অনুরোধে তিনি বাড়ির একতলায় এক মহিলাকে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে ওই মহিলাকে বাড়ি খালি করতে বলা হয়। কিন্তু, মহিলা বাড়ি ছাড়ার বদলে তিনি তৎকালীন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে হুমকি দেন।
অভিযোগ, ২০২৫ সালের শেষদিকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পাওয়া ব্যক্তি ওই বাড়িতে গেলে তাঁকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি, গালিগালাজ করা হয় এবং শাসানিও দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়! তিনি দেখেন, ওই বাড়ি থেকে কয়েক লক্ষ টাকার মূল্যবান আসবাব ও সরঞ্জাম চুরি গিয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে অ্যাটর্নি পাওয়া ওই ব্যক্তি একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন পান। যিনি ফোন করেছিলেন, তিনি কৃষ্ণা চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। কথোপকথনের সময় সম্পত্তি পুনর্দখলের জন্য কৃষ্ণা নাকি এক কোটি টাকা দাবি করেন। দু’দিনের মধ্যে অন্তত পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে বলেন। সেই দাবি মতো, তিনি পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েও দেন। গত এপ্রিল মাসে মহিলাকে বাড়ি খালি করতে বললেও কৃষ্ণা নাকি জানান, এক কোটি না দিলে ওই বাড়ি খালি হবে না। পালাবদলের পর জুন মাসেও নাকি কৃষ্ণা চক্রবর্তী ফের এক কোটি টাকা দাবি করেন। প্রসঙ্গত, গত ৪ জুন মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।