Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিলাপাতায় গহীন জঙ্গলে উমা আরাধনায় বনকর্মীরা, রাত ৯টার পর বাজে না ঢাক

এ এক অন্য পুজো। যেখানে মায়ের পুজোয় রাত ৯টার আগেই ঢাকের বাজনা বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় মাইকের আওয়াজও।

চিলাপাতায় গহীন জঙ্গলে উমা আরাধনায় বনকর্মীরা, রাত ৯টার পর বাজে না ঢাক
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: এ এক অন্য পুজো। যেখানে মায়ের পুজোয় রাত ৯টার আগেই ঢাকের বাজনা বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় মাইকের আওয়াজও। ১৯৭৩ সাল থেকে চিলাপাতার গহীন জঙ্গলের ভিতরে এই পুজো হয়ে আসছে। এবারও তার প্রস্ততি শুরু করে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। 

Advertisement

ফরেস্ট রিক্রিয়েশন স্টাফ ও নব যুব ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে চিলাপাতা রেঞ্জ অফিসের পাশে এই দুর্গাপুজো হয়। পুজোতে শামিল হয় আন্দু, কুরমাই, কুমোরপাড়া ও চকোয়াখেতির বনবস্তিবাসীরা। পুজোর সময়ে জঙ্গলে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও অংশ নেন। অষ্টমীতে তাঁরা অঞ্জলিও দেন। রেঞ্জ অফিসের পাশে স্থায়ী মন্দিরে মায়ের পুজো হয়। 
পুজো কমিটির সভাপতি চিলাপাতার রেঞ্জার সুদীপ্ত ঘোষ বলেন, জঙ্গলের ভিতরে পুজো করলে বনদপ্তরের অনেক কঠোর বিধিনিষেধ মানতে হয়। কারণ ঢাক বা মাইকের আওয়াজে যেকোনো সময়ে বন্যপ্রাণী চলে আসতে পারে। সেই জন্যই এখানে পুজোয় ঢাকের ও মাইক বাজানোর ওপর কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। 
বনদপ্তর সূত্রে খবর, রাতে জঙ্গলে ডিউটি থাকার জন্য পরিবার নিয়ে ৩৫ কিমি দূরে জেলা সদর আলিপুরদুয়ারে গিয়ে ঠাকুর দেখা হয় না বনকর্মীদের। এখানকার চারটি বনবস্তির বাসিন্দাদের পক্ষেও শহরে গিয়ে ঠাকুর দেখা সম্ভব হয় না। সেই জন্য বনবস্তিবাসী ও বনকর্মীদের পরিবারের লোকজনের কথা ভেবে জঙ্গলের ভিতরে এই পুজোর আয়োজন। 
পুজো কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বনকর্মী মনকুমার রাই বলেন, মায়ের পুজোর জন্য বনবস্তিবাসীদের কাছ থেকে কোনো চাঁদা নেওয়া হয় না। আমরা বনকর্মীরাই সাধ্যমতো চাঁদা দিই। তাতেই পুজোর খরচ উঠে যায়। 
চিলাপাতা জঙ্গলের এই পুজোয় মায়ের প্রতিমা আসছে পাতলাখাওয়া থেকে। বন্যপ্রাণীদের কথা ভেবে মণ্ডপে তীব্র আলো রাখা হয় না। নিষ্ঠা, সাবেকিয়ানা ও ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যেই উমা এখানে পুজো পান। অতীতে এই পুজোয় বহু বিদেশি পর্যটক অষ্টমীতে অঞ্জলি দিয়ে গিয়েছেন। বনদপ্তরের রেকর্ড বুকে তা লিখে রাখা হয়েছে। 
চিলাপাতা জিপসি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল রাভা বলেন, জঙ্গলের মধ্যে এমন পুজোর আয়োজন এই অঞ্চলে আর দ্বিতীয় কোথাও হয় না।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ