Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুই সন্তানকে হারিয়ে বিষাদময় কাটোয়ার ঝর্নাদেবীর দুর্গাপুজো

মা আসছেন...শুনলেই বুকটা ধড়াস করে কেঁপে ওঠে ঝর্নাদেবীর। ভয় আর আতঙ্ক ঘিরে ধরে তাঁকে। এবার না জানি কী হয়!

দুই সন্তানকে হারিয়ে বিষাদময় কাটোয়ার ঝর্নাদেবীর দুর্গাপুজো
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: মা আসছেন...শুনলেই বুকটা ধড়াস করে কেঁপে ওঠে ঝর্নাদেবীর। ভয় আর আতঙ্ক ঘিরে ধরে তাঁকে। এবার না জানি কী হয়! আসলে, বোধনের আগেই ঝর্ণাদেবীর জীবনে আসে বিসর্জনের কান্না। ২০২৩ সালে পুজোর ঠিক মাস দু’য়েক আগে ট্রেন দুর্ঘটনা কেড়েছে বড় ছেলেকে। এবারও ঠিক পুজোর প্রাক মুহূর্তে দুর্ঘটনা কেড়ে নিল ঝর্ণাদেবীর শেষ অবলম্বনকে। 

Advertisement

কাটোয়ার কড়ুই গ্রামের সর্দার পাড়ায় বাড়ি ঝর্না সর্দারের।  পুজোকে ঘিরে চারিদিকে যখন আনন্দঘন পরিবেশ তখন বেদনার স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। পুজোর আনন্দ তাঁর কাছে বিবর্ণ। দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে হেরে গিয়েছেন তিনি। কাটোয়ার কড়ুই গ্রামের সর্দার পাড়ায় আজ শুধু বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। সর্দার পাড়ার বাসিন্দা শুকলাল সর্দার ও ঝর্নাদেবীর দুই ছেলে। বড় ছেলে ছোট্টু ২০২৩ সালে ২ জুন করমণ্ডল এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল। সে বাবার সঙ্গে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে যাচ্ছিল। যাতে সংসারে দুটো পয়সা আসে। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে ছেলের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন বাবা। রাজ্য সরকার শুকলালবাবুকে কাটোয়া থানায় পুলিশের হোমগার্ডের চাকরি দিয়েছে। সম্বল ছিল ছোটো ছেলে মিঠুন সর্দার। তাও তাকে মা দুর্গা কেড়ে নিল ঝর্নাদেবীর কোল থেকে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মিঠুনের মৃত্যু হয়। রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে ঘাড়ের শিরাতে আঘাত পেয়েছিল। চিকিৎসা করেও তার প্রাণ বাঁচানো যায়নি। দুই সন্তানকে হারিয়ে আজ তাঁরা নিঃস্ব। বোধনের আগেই বিসর্জনের বাজনা বেজে উঠেছে ঝর্নাদেবীর পরিবারে। ঝর্না দেবী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, দুই ছেলেকে নিয়ে পুজোতে কত আনন্দ করতাম। আমরা গরিব, কিন্তু পুজোতে নতুন জামাকাপড় কিনে দিতাম দুই সন্তানকেই। আজ তারা কেউই নেই। ঠাকুর দেখতে যাব কী করে। কার মঙ্গল কামনায় অঞ্জলি দেব মা দুর্গার পায়ে? শেষ হয়ে গেল আমাদের পরিবার। সুখের আশায় অন্ধকারে ডুবে গেল আমার এক চিলতে মাটির বাড়ি। পুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, ঢাকের বাদ্যি, কাশফুল আর উৎসবের আনন্দ। কিন্তু  কড়ুই গ্রামের শুকলাল বাবুদের এবার সেই আনন্দের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। শুধুই কান্না আর শোক। মা ঝর্না সর্দার তাঁর  দুই সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে দিন কাটছে। 
মা দুর্গার আগমনী বার্তা সাধারণত মানুষের মনে নতুন আশার আলো জ্বালায়। কিন্তু ঝর্না সর্দারের কাছে সেই আগমনীই যেন হয়ে উঠেছে আতঙ্কের। মা আসছেন শুনলেই বুকটা কেঁপে ওঠে তাঁর। কারণ, উৎসবের এই সময়টাতেই বারবার ফিরে আসে দুই সন্তানকে হারানোর স্মৃতি। দুর্গতিনাশিনী ঝর্নাদেবীকে শুধু শূন্যতা ছাড়া কিছুই দিল না৷ 
শুকলাল বাবু বলছেন, আমার আর অবলম্বন বলে কিছু রইল না৷  ছেলে দুটোকে নিয়ে গরীবের সংসারে আমরা সুখ খুঁজতে গিয়েছিলাম৷ আগে আমরা স্বামী-স্ত্রী দিনমজুরি করতাম৷ ছেলে দুটো বড় হওয়ায় ভেবেছিলাম তিনটে রোজগার হবে৷ কিন্তু ভাগ্য আমাদের সইল না৷ পুজো বলে আমাদের আর কিছু নেই৷ সবটাই শূন্যতা৷  দুই ছেলেকে হারিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ ঝর্ণা সর্দারের। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ