সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের ফাঁসিতলা মোড়ে শ্রীশ্রী কৃষ্ণকালী বারোয়ারি সমিতির পরিচালনায় এবং স্মৃতি সংঘের সহযোগিতায় ৫১বছর ধরে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। এখানে সাবেকি ডাকের সাজের একচালা প্রতিমার পুজো হয়। পাতালসাধু সরণি, স্টিমারঘাট রোড, বাগানিয়াপাড়া, মণিপুর বাই লেন সহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও এই পুজোয় শামিল হন।
পঞ্চমীর সন্ধ্যায় পুজোর উদ্বোধন হবে। সেই অনুষ্ঠানে নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী, পুরসভার প্রশাসক প্রসেনজিৎ কুণ্ডু, পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার সঞ্জীবকুমার রাহা এবং নবদ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বরুণ গাইনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ওইদিন সন্ধ্যায় পূর্ব বর্ধমান জেলার চাঁদপুর আধার কলোনির শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হবে।
চিরাচরিত রীতি মেনে ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন হবে। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিনদিনই ফলের সঙ্গে কোনোদিন অন্ন, কোনোদিন খিচুড়ি, পাঁচরকম তরকারি, পুষ্পান্ন, পরমান্ন ও মিষ্টি ভোগ দেওয়া হয়। মহাষ্টমীর দুপুরে প্রায় দেড়হাজার মানুষের মধ্যে খিচুড়ি, পাঁচতরকারি, পরমান্ন প্রসাদ হিসাবে বিলি করা হবে। দশমীতে প্রথা মেনে খই, চিঁড়ে, মুড়কি ও দই ভোগ দেওয়া হবে। সন্ধ্যায় শোভাযাত্রা করে ফাঁসিতলা ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে। বিজয়া দশমীর রাতে নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের শ্রীশ্রীকৃষ্ণকালী মাতার কাঠামো পুজোও আয়োজিত হবে।
পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সৌরভ ঘোষ ও রাজকুমার চক্রবর্তী বলেন, এতদিন গোপাল মন্দিরে এই পুজো হয়ে আসছিল। এবার এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে দেবী দুর্গার আরাধনা ফের সর্বজনীন পুজোর রূপ পেল। পুজো কমিটির উপদেষ্টা আশিসকুমার পাল বলেন, সর্বজনীন দুর্গাপুজোটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত ব্যক্তিগত পুজোর রূপ নিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবিতে ফের তা সর্বজনীন রূপে ফিরেছে।