নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জলে অস্বাভাবিক আয়রন! তা দিয়ে বাস ধোয়ায় সামনের গ্লাস হচ্ছে লাল রং। শুধু তাই নয়, বাসে চালকের সিট নড়বড়ে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাচ্ছেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এনবিএসটিসি) চালকরা। শিলিগুড়িতে প্রশিক্ষণ শিবিরে এমন একগুচ্ছ অভিযোগ করেন চালক ও কন্ডাক্টররা। অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। সেইসঙ্গে তিনি জানান, আগামী ছ’মাসের মধ্যে রাস্তায় নামবে অত্যাধুনিক হাজার বাস।
শিলিগুড়ি ডিপোতে প্রশিক্ষণ শিবিরে নিগমের বিভিন্ন ডিভিশনের চালক ও কন্ডাক্টররা ছিলেন। এখানেই ইসলামপুর ডিপোর গাড়িচালক সুব্রত সরকার বলেন, ইসলামপুর থেকে মালদহ পর্যন্ত বাস নিয়ে গেলে ভাড়া ওঠে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু, কোনো বাসে তেল লাগে ৮৪ লিটার। আবার কোনো কোনো বাসে তেল লাগে ৯৮ থেকে ১১০ লিটার পর্যন্ত। এটা কেন হয়? এখানে চালকের কোনো ত্রুটি নেই। অর্থাৎ, বাসের অবস্থা ঠিক নেই।
আরএকজন চালক বলেন, ময়নাগুড়ি ডিপোতে কলের জলে মারাত্মক আয়রন। সেই জল দিয়ে নিয়মিত বাস পরিষ্কার করতে হচ্ছে।
এতে বাসের সামনের গ্লাস ও লুকিং গ্লাসের রং লাল হচ্ছে। এরফলে, রাতে বাস চালানোর সময় ভিজিবিলিটি কম হয়ে যাচ্ছে।
আরএকজন বলেন, অধিকাংশ বাসে চালকের সিট নড়বড়ে। সিটবেল্ট নেই। কিষানগঞ্জে বিহার সরকার এজন্য ফাইন করছে। জলপাইগুড়ির কন্ডাক্টর কমল রায়চৌধুরী বলেন, বাসে ইলেকট্রিক হর্ন, বেল, বয়স্ক, বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ ও মহিলাদের আসনের জন্য এবং তিন বছরের উপরে শিশুর ভাড়া লাগবে বলে স্টিকার প্রয়োজন। এছাড়া ফ্যান, সিসি ক্যামেরা সহ আধুনিক ব্যবস্থা থাকা দরকার।
অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে শীঘ্রই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন বাসও রাস্তায় নামানো হবে। এনবিএসটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাগুড়ির ডিপোর জলের বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরামর্শ মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।