নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ডুয়ার্সে বেড়াতে আসা অনেকেরই ইচ্ছে থাকত, গোরুমারার ধূপঝোরায় গাছবাড়িতে থাকবেন। এমন কোনোদিন ছিল না যে, গাছবাড়ি ফাঁকা থাকত। গোটা উত্তরবঙ্গে বনদপ্তরের এই একটিই গাছবাড়ি ছিল। সাধারণ পর্যটকদের পাশাপাশি গোরুমারায় গাছবাড়িতে থেকেছেন বহু ভিআইপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনিও রাত কাটিয়েছেন এখানে। করোনার সময় থেকে বেহাল অবস্থায় ছিল ধূপঝোরার গাছবাড়ি। অবশেষে গোটা পরিকাঠামোটাই ভেঙে ফেলা হল। ফলে চিরতরে হারিয়ে গেল ডুয়ার্সে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ গাছবাড়ি। নতুন করে ডুয়ার্সে বনদপ্তরের উদ্যোগে আর কোথাও গাছবাড়ি তৈরি হবে কি না, নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না আধিকারিকরা।
গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বলেন, টাকা এলে গাছবাড়ি বানানো হবে। তবে গাছের উপর আর বাড়ি বানানো হবে নাকি গাছের আদলে কংক্রিটের বাড়ি হবে, সেটা দপ্তরের কর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
ধূপঝোরায় গাছবাড়ি ভেঙে ফেলায় ক্ষুব্ধ পর্যটকরা। বুধবার লাটাগুড়ি বাজারে দাঁড়িয়ে হাওড়ার তমাল ভট্টাচার্য বলেন, আমি মাঝমধ্যেই ডুয়ার্সে বেড়াতে চলে আসি। এবার এসে শুনলাম, ধূপঝোরায় গাছবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বলা হয়েছিল সংস্কারের পর চালু করা হবে। কিন্তু সেটিকে যে পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হবে, ভাবতে পারিনি।
বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষ্যে এদিন ধূপঝোরায় দপ্তরের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে ফের গাছবাড়ি তৈরির দাবি জানান। বলেন, গাছবাড়িতে থাকার টানে অনেকেই ধূপঝোরায় আসতেন। এখন সেটিই যদি না থাকে, পর্যটকদের অনেকেই এখানে আসার ব্যাপারে উৎসাহ হারাবেন।
এনিয়ে বনমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দশক ধরে রাজ্যে বনদপ্তরকে খরচের খাতায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। পর্যটকদের চাহিদার বিষয়টিও মাথায় রাখা হবে। বলেন, রাজাভাতখাওয়ায় কী সমস্যা হচ্ছিল, সেজন্য আগের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত জঙ্গলে পর্যটকদের জন্য এন্ট্রি ফি মকুব করে দেন। এতে বনদপ্তরের অনেক ক্ষতি হয়েছে। জঙ্গল ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য টিকিট ফেরাতে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রসেসিং চলছে।
এদিকে, এবার পুজোর আগে জলদাপাড়া ও গোরুমারায় জঙ্গল সাফারিতে হাতির সংখ্যা বৃদ্ধি কিংবা নতুন করে কোথাও সাফারি চালুর সম্ভাবনা নেই বলে এদিন জানান উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) জেভি ভাস্কর। তিনি বলেন, সব হাতিকে রাইডে ব্যবহার করা যায় না। বর্তমানে জলদাপাড়ায় ৬টি ও গোরুমারায় ৩টি কুনকি হাতিকে জঙ্গল সাফারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। করিডরে হাতির উপর নজরদারিতে আলিপুরদুয়ার, মাদারিহাট ও বাগডোগরায় এআই বেসড ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিএফ। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি জায়গায় ওই ক্যামেরা বসানো হবে।
• এখানেই ছিল গাছবাড়ি। - নিজস্ব চিত্র।