অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: আলিপুরের পর নিউটাউন। বছর চারেক আগে শুরু হয়েছে কলকাতার দ্বিতীয় চিড়িয়াখানার পথচলা। ইকোপার্কের একেবারে গা ঘেঁষে রয়েছে এই হরিণালয় মিনি জু। ইংরাজি নতুন বছরেই সেখানে আসছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। ফলে আরও বাড়বে ভিড়। বাঘেই শেষ নয়। অন্যান্য বন্যপ্রাণীও নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সবার থাকার জন্য প্রয়োজন আরও বেশি জায়গা। তাই এই নিউটাউন মিনি জু সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এলাকা বৃদ্ধির জন্য হিডকো কর্তৃপক্ষের কাছে জমি চাইবে বনদপ্তর। সেই সঙ্গে এই মিনি জু-কে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসার জন্য পর্যটন বিভাগের সাহায্য নেওয়ার ভাবনা রয়েছে দপ্তরের। ভিড় বাড়লে বাড়বে রাজস্বও।
শীতের মরশুমে ভিড় উপচে পড়ে ইকোপার্কে। বিশেষ বিশেষ দিনে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়। এই পার্কের ৬ নম্বর গেটের পাশে তৈরি রয়েছে হরিণালয় মিনি জু। তবে সম্পূর্ণ পৃথক। যাঁরা ইকোপার্কে টিকিট কেটে ঢোকেন, তাঁরা চাইলেই দেখতে পাবেন। তবে জু’র জন্য আলাদা টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। জানা গিয়েছে, ২০১৬ সাল নাগাদ এখানে প্রথমে হরিণালয়ের সূচনা হয়েছিল। প্রথমে করা হয়েছিল একটি ডিয়ার পার্ক। হিডকো প্রায় ১৩ একর জমি দিয়েছিল। পরে জু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয় এটি। তারপর আস্তে আস্তে বিভিন্ন বন্যপ্রাণ নিয়ে আসা শুরু হয়। জিরাপ, জেব্রা, জলহস্তী, কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, হরিণ, পাখিসহ প্রচুর বন্যপাণ রয়েছে। বাঘ না থাকায় দর্শনার্থীদের আক্ষেপ ছিল। এবার বনদপ্তর সেই আক্ষেপও পূরণ করতে চলেছে। আগামী ১ জানুয়ারি এখানে বাঘ নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে।
শুক্রবার বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওঁরাও এই হরিণালয় জু পরিদর্শন করেন। বাঘের এনক্লোজারসহ পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। তারপর বনদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই হরিণালয় খুবই ভালো। তবে আরও একটু জায়গা বেশি হলে ভালো হয়। তার জন্য আমরা হিডকো কর্তৃপক্ষের কাছে জমি চাইব। এই জু নিয়ে সেভাবে প্রচার করা হয়নি। ব্র্যান্ডিং প্রয়োজন। আমরা পর্যটন বিভাগের সঙ্গে কথা বলব। আগামী দিনে আরও অনেক প্রাণী এখানে আসবে। এটুকু বলতে পারি, এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’



