Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

নরওয়ের সাংবাদিককে কড়া জবাব বিদেশ মন্ত্রকের

মানবাধিকার ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা। জোড়া ইস্যুতে সরগরম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সদ্য শেষ হওয়া নরওয়ে সফর।

নরওয়ের সাংবাদিককে কড়া জবাব বিদেশ মন্ত্রকের
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

ওসলো ও নয়াদিল্লি: মানবাধিকার ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা। জোড়া ইস্যুতে সরগরম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সদ্য শেষ হওয়া নরওয়ে সফর। নেপথ্যে নরওয়ের এক স্বল্প পরিচিত মহিলা সাংবাদিক। তাঁর নাম হেলে লিং। এই সাংবাদিকের অভিযোগ, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জয়েন্ট ব্রিফিংয়ের পর তাঁর প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে যান মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিং কটাক্ষ করে লেখেন, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিশ্ব সূচকে নরওয়ে এক নম্বরে, ভারতের স্থান ১৫৭তম। ভারতের ভাবমূর্তির প্রসঙ্গে টেনে এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার মধ্যেই সোমবার রাতে নতুন করে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় নরওয়ের ওসলোয় ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে। সেই সাংবাদিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল হেলে লিংকেও। ভারতীয় কূটনীতিকদের বক্তব্যের মাঝপথেই বারবার নরওয়ের ওই সাংবাদিক ভারতে সংখ্যালঘু ও মানবাধিকার এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। জবাব দেন বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ। উত্তেজক পরিস্থিতি তৈরি হলে মাঝপথেই বেরিয়ে যান লিং। পরে আবার ফিরেও আসেন ওই মহিলা সাংবাদিক। এই ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়া ও ভারতীয় রাজনীতি একযোগে উত্তাল হয়েছে। জোরদার বিতর্কের মধ্যেই নরওয়ের ওই সাংবাদিক এবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে ফোনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। 

Advertisement

ওসলোর হোটেলে বিদেশ মন্ত্রক আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে লিংয়ের প্রশ্নের জবাবে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন জর্জ। বলেন, ভারতে সুনির্দিষ্ট সংবিধান ও সাংবিধানিক গ্যারান্টি রয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোটে সরকার বদল হয়। এমনকী স্বাধীনতার পরই মহিলাদের ভোটাধিকার স্বীকৃত হয়েছে, বহু উন্নত দেশের নারীদের এই অধিকার পেতে বহু দশক সময় লেগে গিয়েছিল। জর্জের অভিযোগ, ভারতের ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণাহীন কিছু নিন্দুক ‘অজ্ঞ এনজিও’ প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে মতামত তৈরি করে ফেলেন ও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।
ঘটনাচক্রে, নরওয়ের ওই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। লোকসভার বিরোধী দলনেতা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, কোনো কিছু গোপন করার না থাকলে ভয় পাওয়ারও কারণ থাকে না। বিশ্ব যখন চোখের সামনে দেখে ভীত প্রধানমন্ত্রী আপস করেছেন এবং তিনি প্রশ্নের জবাব এড়াতে পালাচ্ছেন, তখন দেশের ভাবমূর্তির কী হাল হয়?  লিং সম্পর্কে এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেও জোর চর্চা। নরওয়ের এই মহিলা সাংবাদিকদের একটা অংশ থেকে ‘ফরেন প্ল্যান্ট’, ‘স্পাই’, ‘চাইনিজ প্রক্সি’র মতো শব্দের প্রয়োগে আক্রমণ করা হয়েছে। এই অংশের দাবি, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জয়েন্ট ব্রিফিংয়ে হাজির হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেটি কোনো সাংবাদিক বৈঠক ছিল না যে, প্রশ্নর জবাব দিতে হবে তাঁকে। এর বিপক্ষেও জোরালো মতামত সামনে আসছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই অংশের বক্তব্য, মোদি প্রস্থান করলেও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর থেকে আজ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সাংবাদিক বৈঠকই করেননি মোদি। আর ‘স্পাই’য়ের অভিযোগ উড়িয়ে খোদ লিং লিখেছেন, আমার পেশা হল সাংবাদিকতা। 

সম্পর্কিত সংবাদ