নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছোট ছোট শিশিতে আতর নিয়ে প্রতিদিন টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে দাঁড়ান মৈনাক দত্ত। এগুলি তিনি বিক্রি করেন। দাম নিয়ে দর কষাকষির পর অনেকে সেই সুগন্ধী কিনে নিয়ে যান। এভাবেই গত দু’মাস কাটছিল তরুণের। কিন্তু দিনকয়েক আগে অদ্ভুত ঘটনা ঘটে তরুণ আতর ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তাঁর অভিযোগ, আতরের দাম নিয়ে দরকষাকষি হয় এক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে। দামে না পোষাতেই সটান তিনি বলে দেন, ‘তোমরা বাংলাদেশ থেকে এসে এখানে ভালোই ব্যবসা ফেঁদেছ। আমাদের জায়গাগুলো দখল করে নিয়ে নষ্ট করছ।’ এভাবে আচমকা নিজভূমে ‘বাংলাদেশি’ তকমা পেয়ে হতভম্ব হয়ে যান মৈনাক।
তিনি আদতে বাগুইআটির বাসিন্দা। চাকরি ছেড়ে নিজে কিছু করার তাগিদে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে শুরু করেন আতরের ব্যবসা। মাস দু’য়েক হল, টালিগঞ্জ এলাকায় সেই আতর বিক্রি করছেন মৈনাক। তাঁর বন্ধুরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ওই আতর বিক্রি করেন। নিজের দেশে ‘বাংলাদেশি’ তকমা পেয়ে তরুণের বক্তব্য, ‘আসলে কিছু পছন্দ না হলেই গালাগালির মতো করে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ তরুণ বলছিলেন, ‘আমি বাগুইআটিতে থাকি। আমরা বন্ধুরা মিলেই আতর তৈরি করি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বিক্রিও করি আমরাই। ওই বৃদ্ধের দাম পছন্দ না হতেই এরকম একটা কথা বলে দিলেন। শারীরিক নিগ্রহ অবশ্য করেননি।’ একে বৃদ্ধ, তার উপর এলাকায় যদি সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেকথা ভেবেই ওই বৃদ্ধকে তিনি আর কিছু বলেননি বলে দাবি যুবকের। তবে তিনি পাল্টা ওই বৃদ্ধকে প্রশ্ন করেন, ‘কেন একথা বললেন?’ বৃদ্ধের উত্তর, ‘সব জানি তোমরা কোথাকার। আমি জানি, আতর বাংলাদেশি মুসলিমরা বেশি ব্যবহার করে। তাই এখানে এসে বিক্রি করছ…’। আর বেশি কথা বাড়াননি মৈনাক। চারপাশে কাউকে তিনি এ ব্যাপারে পাশেও পাননি। তবে হাল ছেড়েও দেননি তিনি! সোমবার ফের ওই এলাকাতেই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত আতর বিক্রি করেন মৈনাক। আগামী দিনেও তিনি সেখানেই আতর বিক্রির জন্য দাঁড়াবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু নিজের জন্মভূমি, যেখানে তাঁর বড় হওয়া, বেঁচে থাকা, সেখানেই আতর বিক্রি এবং বাংলা ভাষায় কথা বলার বাংলাদেশি তকমা পেয়ে যারপরনাই বিস্মিত তিনি। শেষে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘আমরা আতর বিক্রি করি। সুগন্ধের কোনও ভেদাভেদ হয় না।’