


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বিএলওর মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসতেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য। রঙের উৎসব মিটতেই তা নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, মৃত বিএলওর নাম সুবিমল কারক (৫৮)। বাড়ি শালবনী থানার হাতিমারি এলাকায়। তিনি সাবলি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। আচমকা তাঁর মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে জানালেন, সুবিমলবাবু প্রথম থেকেই এই দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তবুও তাঁকে জোর করে বিএলওর দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই কারণেই তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। তাঁর এলাকায় ১ হাজার ১৭১ জন ভোটার রয়েছে। জানা গিয়েছে, এদিন খবর পাওয়া মাত্রই মৃত বিএলওর বাড়িতে যান স্থানীয় বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা। তিনি মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। বিধায়ক বলেন, এটা নির্যাতন কমিশন। এই কমিশনের চাপ সহ্য করতে অনেকেই পারেননি। নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচন কমিশনের কাজ হল একটাই, সেটা বিজেপিকে খুশি করা। মৃতের পরিবারের পাশে আছি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকেই সুবিমলবাবু বিএলওর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কেউ সমস্যায় পড়লে, সমাধানের তিনি চেষ্টা করতেন। তাই হাতিমারি এলাকার মানুষ এক ডাকে তাঁকে চেনেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসাও করান। বুধবার দোলের জন্য বাড়িতেই ছিলেন। রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোররাতে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের লোকজন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতের মেয়ে সুচন্দ্রিমা কারক জানান, এসআইআরের কাজ নিয়ে বাবা খুবই টেনশন করতেন। অনেক ভোটার থাকায় দিনভর কাজ করতে হতো। এই কাজ করতে ইচ্ছুক নন বলে বাবা জানিয়েও দেন। কিন্তু লাভ হয়নি। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি।
প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, এসআইআরের কাজ আরও আগে শুরু করা উচিত ছিল। নির্বাচন কমিশন সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়ার পরেই সমস্যা বাড়ে। কারণ, সাসপেন্ড করার নির্দেশ আসার পরেই টেনশন করতে শুরু করে বিএলও থেকে ইআরও সকলেই।
হাতিমারি এলাকার গ্রামবাসী হারাধন কারক বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। পরিবারের পাশে আমরা আছি। এসআইআরের কাজে মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, যে কোনো মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক। একজনের মৃত্যু নিয়ে তৃণমূল নেতারা নাটক করছে। মানুষ জবাব দেবে।