Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক হওয়া লক্ষ্য কৃতীদের, হবি গান-বাজনা ও সাহিত্যপাঠ

উচ্চমাধ্যমিকের মেধা তালিকায় উত্তর শহরতলি তথা উত্তর ২৪ পরগনার কৃতী ছাত্রছাত্রীদের জয়জয়কার। তাঁদের কেউ হতে চান গবেষক, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ-বা ডাক্তার।

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক হওয়া লক্ষ্য কৃতীদের, হবি গান-বাজনা ও সাহিত্যপাঠ
  • ১৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও বারাসত: উচ্চমাধ্যমিকের মেধা তালিকায় উত্তর শহরতলি তথা উত্তর ২৪ পরগনার কৃতী ছাত্রছাত্রীদের জয়জয়কার। তাঁদের কেউ হতে চান গবেষক, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ-বা ডাক্তার। এই কৃতীদের বেশিরভাগই রাজ্যের কোনো না কোনো রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। তাঁদের এই ফলাফলে জেলাজুড়ে ছাত্র-শিক্ষক মহলে খুশির হাওয়া।

Advertisement

৪৯৬ পেয়ে রাজ্যে প্রথম হওয়া আদৃত পাল বরানগরের বনহুগলির বাসিন্দা। নিমতার শহিদ ক্ষুদিরাম সরণির বাসিন্দা সৌমিক দত্ত মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯২। ফুটবল পাগল সৌমিক পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। বাবা বিপ্লব দত্ত ও মা শেফালি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী। সৌমিক ডাক্তার হতে চান। স্কুলের ফুটবল টিমের নিয়মিত সদস্য। সৌমিক বলেন, খেলা ও পড়া সমান তালে চালিয়ে গিয়েছি। মিশনের মহারাজ ও শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় এই সাফল্য এসেছে। 
বরানগরের বাসিন্দা সোহম বেজ নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। ৪৮৮ নম্বর পেয়েছেন। মেধা তালিকার তাঁর স্থান নবমে। বাবা শুভাশিস বেজ রাজ্য ভূমিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব। মা সোমাদেবী গৃহবধূ। পড়াশোনার পাশাপাশি গল্প পড়া ও লেখা এবং তবলা বাজানোর নেশা সোহমের। ইঞ্জিনিয়ার হতে চান তিনি। শুভাশিসবাবু বলেন, ওর উপর কোনো চাপ নেই। ও যা চাইবে তাতেই আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। 
নিমতার সমৃদ্ধ পাল ৪৮৭ পেয়ে মেধা তালিকার দশম স্থানে। পঞ্চম শ্রেণি থেকেই সমৃদ্ধ বরানগর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। বাবা সমীরকুমার পাল রিষড়া হাইস্কুলের অর্থনীতির শিক্ষক। মা সন্ধ্যা পাল কুণ্ডু নিমতা হাইস্কুলের বাংলার শিক্ষিকা। সমৃদ্ধ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চান। তিনি বলেন, অবসর সময়ে গল্প-উপন্যাস পড়েছি। মন ভালো করতে গানও গাই। 
সোদপুর ৪১ নম্বর উত্তরপল্লির বাসিন্দা মেঘান অধিকারী নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। ৪৮৭ পেয়ে তিনি দশম স্থানে। তাঁর বাবা মৃণালকান্তি অধিকারী সহকারী শ্রম কমিশনার। মা মহুয়া অধিকারী গৃহবধূ। রাশিবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চান মেঘান। পড়ার পাশাপাশি বাঁশি ও বেহালার সুরে ডুবে থাকেন। ভালোবাসেন উপন্যাস ও অন্যান্য সাহিত্য পড়তে। 
বরানগর নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দিরের ছাত্র সোহম ঘোষ মেধা তালিকার দশম স্থানে রয়েছেন। বরানগর তাঁতিপাড়ার বাসিন্দা। বাবা প্রণবকুমার ঘোষ বেহালা শিক্ষায়তনের শিক্ষক। মা শুভ্রা ঘোষ গৃহবধূ। তাঁর দাদা প্রিয়ম রাশিবিজ্ঞান নিয়ে পড়ছেন। তবে সোহমের আগ্রহ ভূগোলে। ভূগোলে একশোয় ১০০ পেয়েছেন তিনি। ওই বিষয়েই গবেষণা করা তাঁর লক্ষ্য।
বারাসত মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল হাইস্কুলের ছাত্র রৌনক সরকার দশম স্থান লাভ করেছেন। বাবা রঞ্জিতকুমার সরকার রেলের স্টেশন ম্যানেজার। মা ঝুমাদেবী গৃহবধূ। পড়ার পাশাপাশি রৌনক গান করেন। প্রিয় বিষয় অঙ্ক নিয়ে গবেষণা করতে চান তিনি। পড়তে চান ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউটে (আইএসআই)।
বসিরহাটের আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা আরিঘ্ন সরকার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান পেয়েছেন। বড়ো ইঞ্জিনিয়ার হতে চান তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা এবং বই পড়া তাঁর নেশা।

সম্পর্কিত সংবাদ