


ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়ান থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যরা চরম সংকটে। যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। চলমান সংঘাতের জেরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক তত্পরতা বাড়তেই যুদ্ধজাহাজ গুলিতে খাদ্য সরবরাহ নিয়ে চরম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, খাবারের ঘাটতি এবং নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জাহাজগুলিতে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান ও নৌ অবরোধ কার্যক্রমে যুক্ত কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে রয়েছে। সেই কারণে সেগুলিতে খাবার সরবরাহে বিপত্তি দেখা দিচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ইউএসএস ট্রিপোলিতে কর্মরত এক মহিলা সেনার পরিবার তাঁর পাঠানো একটি ছবি পেয়েছেন, যেখানে দেখা যায় প্রায় খালি একটি খাবরের প্লেট। যেখানে কয়েক টুকরো মাংসের টুকরো ও সবজি ছাড়া বিশেষ কিছু নেই। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ অন্যান্য জাহাজ থেকেও। সেখানেও খাবার হিসেবে সেদ্ধ গাজর, শুকনো মাংস ছাড়া আর কিছুই নেই।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইরানকে কেন্দ্র করে চলা সামরিক পরিস্থিতিতে এই জাহাজগুলি মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩,৫০০ নাবিক ও মেরিন সদস্য এই জাহাজগুলিতে রয়েছেন এবং তারা ইরানের বন্দর থেকে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা নিচ্ছেন। এদিকে, সেনাদের পরিবার খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানোর চেষ্টা করলেও বহু ক্ষেত্রে তা গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে না। এমনকি জাহাজের ডাক পরিষেবাও স্থগিত রয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক নাবিকের পরিবার জনান, 'বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীতে এমন খাদ্য সংকট হওয়া উচিত নয়, এবং জাহাজে ডাক পরিষেবা থমকে যাওয়াও উদ্বেগজনক ব্যাপার'। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, 'এই ডাক পরিষেবা আপাতত স্থগিত থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় পরিষেবা চালু করা হবে। তবে ইতিমধ্যে পাঠানো ডাক নিরাপদে সংরক্ষিত রয়েছে এবং পরে তা পৌঁছে দেওয়া হবে'।