নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলি জেলার শ্রীরামপুর, চন্দননগর ও চুঁচুড়া মহকুমায় প্রায় সবক’টি পুরবোর্ডের পতন হয়েছে। এবার তার আঁচ পড়তে চলেছে জেলা পরিষদ থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে। এ নিয়ে হুগলিজুড়ে চর্চাও শুরু হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই জেলার অধিকাংশ পঞ্চায়েতেই ডামাডোল শুরু হয়েছে। একদিকে অনিয়মের অভিযোগে পঞ্চায়েত কর্তাদের গ্রেপ্তার, অন্যদিকে নাগরিকদের একাংশের ক্ষোভের কারণে ‘ডিম থেরাপি’ চলছে জেলার বিভিন্ন অংশে। অনেক জায়গাতেই প্রধান থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সদস্যরা অফিসে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এই অবস্থায় গ্রামাঞ্চলে ক্ষমতা স্থানান্তর নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
পুরসভার মতো পঞ্চায়েত স্তরে পদত্যাগের হিড়িক নিয়ে দ্বিমত আছে রাজনৈতিক মহলে। তাঁদের অনেকেই বলছেন, পুরসভারগুলির মেয়াদ প্রায় শেষের মুখে। পাশাপাশি, পুরসভার সংখ্যা কম হওয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে বোর্ড গঠন করা অসম্ভব নয়। কিন্তু পঞ্চায়েতের তা কঠিন। পুরসভার ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির যতটা পরোক্ষ আগ্রহ ছিল, পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে তা নেই। উপরন্তু বিজেপির অন্দরমহলে এই পদ্ধতি নিয়েও দ্বিধা আছে।
এ প্রসঙ্গে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরসভায় কোনো নির্বাচিত সদস্যকে আমরা পদত্যাগ করতে বলিনি। জনসমর্থন বিপক্ষে আছে দেখে পুরকর্তারা নিজেরাই পালিয়ে গিয়েছেন। মানুষকে বেকায়দায় ফেলেছেন তাঁরা। পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ— যদি কর্তারা চালাতে না পারেন, সেক্ষেত্রে আমাদের কোনো ভূমিকা থাকবে না। তৃণমূলের মমতাপন্থী নেতৃত্ব এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে মমতা শিবিরের এক প্রাক্তন নেতা বলেন, আমরা কাউকে পদ ধরে রাখতে বা পদ ছেড়ে দিতে বলছি না। পঞ্চায়েতগুলি যেমন মনে করবে, তেমনই পদক্ষেপ করবে। বস্তুত দলের এই ভূমিকার কারণেই পঞ্চায়েত সদস্যরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। হুগলির জেলা সদর লাগোয়া এক পঞ্চায়েতের কর্তা বলেন, পঞ্চায়েত সদস্যদের অনেকেই খুব গরিব। প্রতি মাসে যে সরকারি ভাতা পান, সংসার চালানোর প্রশ্নে তা তাঁদের একটি নিশ্চিত আয়ের জায়গা। ফলে, অনেকেই পদত্যাগ করতে চাইছেন না। বর্তমান সময়ে এ নিয়ে দলের কারও ভ্রুক্ষেপ নেই। ফলে, নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, পঞ্চায়েত স্তরে আর্থিক সংকট নেই। সেখানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবে টাকা দিতে হয়। পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয়ও পুরসভার তুলনায় বেশি। ফলে, প্রতিদিনের কাজ চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন নয়। সেকারণেই পুরসভার মতো পদত্যাগের ধারাবাহিকতা গ্রামীণ এলাকায় হয়ত দেখা যাবে না।