পুজোর আগে অগ্নি ও খাদ্য সুরক্ষায় জোর বোলপুরে
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: পুজোর আগে অগ্নি ও খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী হল বোলপুর মহকুমা প্রশাসন। হোটেল, রিসর্ট, পেট্রল পাম্প, মিষ্টির দোকান ও খাবারের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের নিয়ে শুক্রবার বোলপুর পুরসভার উৎসর্গ মঞ্চে আয়োজিত হল ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, গ্যাস ব্যবহারের অনুমতি, খাদ্যের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আগুন লাগলে কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তা হাতেকলমে দেখান দমকলকর্মীরা।

Advertisement

সম্প্রতি তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক হয়েছে প্রশাসন। সেই প্রেক্ষিতেই এই কর্মসূচির আয়োজন। এদিন উপস্থিত ছিলেন বোলপুরের মহকুমা শাসক ব্রততী দত্ত, মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক নিলুফা পারভিন, বোলপুর ফায়ার স্টেশনের অফিসার সৌরভ মণ্ডল, খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক সঞ্জুয়ারা খাতুন, বোলপুর পুরসভার প্রশাসক বিকাশ নস্কর সহ বোলপুর-শ্রীনিকেতন, ইলামবাজার ও নানুর ব্লকের বিডিওরা। মহকুমা শাসক বলেন, সামনেই পুজো। তাই বিভিন্ন ক্ষেত্রের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে এই সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। অগ্নি ও খাদ্য সুরক্ষার বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আগামী দিনেও এ ধরনের কর্মসূচি চলবে। দমকলের তরফে হোটেল ও রিসর্টগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার উপর জোর দেওয়া হয়। ফায়ার স্টেশন অফিসার সৌরভবাবু বলেন, অনেক হোটেল ও রিসর্টে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। কোথাও আবার গ্যাস ব্যবহারের প্রয়োজনীয় লাইসেন্সও নেই। এই ঘাটতিগুলি দ্রুত মেটাতে হবে। সরকারি গেস্টহাউসগুলিতেও গ্যাস ব্যবহারের অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। পুজো কমিটিগুলিকেও মণ্ডপে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। আগুন লাগলে কীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, তা দমকলকর্মীরা প্রদর্শনের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কেও সচেতন করা হয়।
সঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, টাটকা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিক্রি করতে হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। সেখানে কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সেগুলি সংশোধন করতে বলা হয়েছে। অনেকেই সেই নির্দেশ মেনেছেন। আগামী দিনেও যাতে মানুষ নিরাপদ ও ভালো মানের খাবার পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।