সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: শৈবতীর্থ জল্পেশে শ্রাবণী মেলায় এবার পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে হেলিকপ্টার থেকে হবে পুষ্পবৃষ্টি। এমনটাই জানালেন ময়নাগুড়ির বিধায়ক ডালিম রায়। শুক্রবার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব সৌমিত্র মোহনের উপস্থিতিতে জলপাইগুড়ি ডিএম অফিসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়।
ওই বৈঠকের পর বিধায়ক জানান, ২০ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আসার কথা। তিনি পুজোও দেবেন। পাঁচ সপ্তাহ ধরে এখানে মেলা চলবে। মেলা চলাকালীন প্রতি সোমবার আবহাওয়া ভালো থাকলে হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছিটানো হবে। তিস্তার ঘাট থেকে জল নিয়ে পুণ্যার্থীরা মন্দিরে পৌঁছন। এই জল নেওয়ার জন্য ঘাটে টাকা নেওয়া হয়। যা নিয়ে অনেক অভিযোগ ছিল ভক্তদের। এবার ঘাটে কোনো চাঁদা নেওয়া হবে না। মন্দিরে পুজো দিতে ভিড় এড়াতে এবার অনলাইনেও টিকিট ইস্যু করা হবে। অফলাইনেও কাউন্টারে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটা যাবে। টিকিটের মূল্য ৪০ টাকা।
আগামী ১৯ তারিখ, রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে শ্রাবণী মেলা। এদিন জল্পেশ মন্দিরে এসে মেলা এবং গর্ভগৃহের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে যান তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলার পদস্থ আধিকারিকরা। এদিন তাঁরা মন্দিরে পুজো দেন। মেলার মাঠ ঘুরে দেখেন। তিস্তা নদীর ঘাট পরিদর্শন করেন।
সৌমিত্র মোহন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিনিধি হিসাবে এসেছি। সুষ্ঠুভাবে মেলা যাতে হয় তারজন্য কী কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে সেব্যাপারে স্থানীয় এমএলএ, প্রশাসন সহ মন্দির কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এবার এই মেলা একেবারে অন্যমাত্রা পাবে।
মন্দির কমিটির সম্পাদক গীরেন্দ্রনাথ দেব বলেন, অফলাইন এবং অনলাইন দু’ভাবেই গর্ভগৃহে প্রবেশের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। অনলাইনে টিকিটের জন্য আমরা কিউআর কোড বিভিন্ন জায়গায় সাঁটিয়ে দেব।
উল্লেখ্য, শ্রাবণী মেলায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য বিহার, সিকিম, অসম থেকেও ভক্তরা আসেন। তিস্তার ঘাট থেকে তাঁরা জল নিয়ে মন্দিরে পৌঁছন। রবিবার রাত ১২টার পর থেকে সোমবার দিনভরই হাজার হাজার ভক্ত লাইনে দাঁড়িয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহে পৌঁছে শিবের মাথায় জল ঢালেন। • জল্পেশে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব সৌমিত্র মোহন।