Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কান্দি মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

দ্বারকা, ব্রাহ্মণী, কুয়ে ও ময়ূরাক্ষী নদীর জলে কান্দি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা বানভাসি হয়েছে। দু’দিন ধরে বন্যার জল বিভিন্ন গ্রামের মাঠে সীমাবদ্ধ থাকলেও রবিবার রাত থেকে গ্রামের ভিতরেও জল ঢুকতে শুরু করেছে।

কান্দি মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, কান্দি: দ্বারকা, ব্রাহ্মণী, কুয়ে ও ময়ূরাক্ষী নদীর জলে কান্দি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা বানভাসি হয়েছে। দু’দিন ধরে বন্যার জল বিভিন্ন গ্রামের মাঠে সীমাবদ্ধ থাকলেও রবিবার রাত থেকে গ্রামের ভিতরেও জল ঢুকতে শুরু করেছে। ত্রাণ পেতে বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক অফিসে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement

গত দু’দিন ধরে খড়গ্রাম ব্লকের ঝিল্লি ও পদমকান্দি পঞ্চায়েত এলাকার অন্তত ১৫টি মাঠ জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। সর্বমঙ্গলাপুর, কেলাই, পাহাড়পুর, কামারপুর, ঝাঁঝড়া, পদমকান্দি, কাদিপুর প্রভৃতি গ্রামের একাংশে বন্যার জল ঢোকায় কয়েকটি মাটির বাড়ি ভেঙে প‌঩‌঩ড়েছে। কেলাই গ্রামের বাসিন্দা তথা ঝিল্লি পঞ্চায়েতের সদস্য বুল্টি বেগম বলেন, পরিস্থিতি খুব খারাপ। মাঠের ফসল বাঁচিয়ে রাখার আর কোনও উপায় থাকল না।
রবিবার থেকেই স্পিডবোটে এলাকার বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন খড়গ্রামের বিডিও মিলনী দাস। তিনি বলেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ত্রাণ বিলি করা হচ্ছে।
কয়েকদিন ধরে বড়ঞা ব্লকের সুন্দরপুর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন নিচু এলাকা জলমগ্ন ছিল। তবে রবিবার বিকেল থেকে জলস্তর আরও বেড়ে যাওয়ায় সোমবার সকালে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কুয়ে নদীর জলে বৈদ্যনাথপুর, তারাপুর, মজলিসপুর, জাওহাড়ি, ভারোয়া, সোনাভারুই, মামুদপুর মৌজা প্লাবিত হয়েছে। সোনাভারুই, ভারোয়া ও জাওহাড়িতে গ্রামের ভিতরে কিছু এলাকাতেও জল ঢুকেছে। ব্লক প্রশাসনের কর্মীরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
তবে ভরতপুর-১ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ব্লকের সুখদানপুর গ্রামের চারদিকে এখন বন্যার জল। এলাকার বাসিন্দারা নৌকা ও গুড়ের কড়াইয়ে চেপে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছেন। তিনদিন ধরে গ্রামটি বিদ্যুৎহীন। এদিন ভরতপুর-১এর বিডিও দাওয়া শেরপা, ভরতপুর থানার ওসি শিবনাথ মণ্ডল সহ অন্যরা ওই গ্রাম পরিদর্শন করে দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন। ওই এলাকার শ্যামপুর, গড্ডা, চাঁচোয়া, বালিচুনা, সিংহারি, চাঁদপুর, কোল্লা, জাখিনা, ছত্তরপুর, ইব্রাহিমপুর, হামিদপুর, পল্লিশ্রী, কুলুপুকুর, গোপালপুর, আঙারপুর ইত্যাদি গ্রামের মাঠ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কোল্লা গ্রামে প্রশাসনের তরফে লঙ্গরখানা খোলা হয়েছে। পুলিসের তরফে কান্দি-সালার রাজ্য সড়কের আঙারপুর বক্স সেতুর কাছে বাঁশ পুঁতে লাল কাপড় বেঁধে বিপদসীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই বিডিও অফিসে ত্রাণ পেতে বাসিন্দারা লাইন দেন। ভরতপুর-১ এর বিডিও বলেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রামে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
কান্দি ব্লকের হিজল পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। চাষের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এলাকার গোকর্ণ ও মহালন্দি গ্রামের মাঠেও অতিবৃষ্টিতে জল জমে গিয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ