নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বৃষ্টি হলেই আস্ত রাস্তা যেন সমুদ্র! বাস, গাড়ি সজোরে পার হলেই ঢেউ আছড়ে পড়ে। কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস বানিয়ে ‘মন্দারমণি’ বলে কটাক্ষও করেন। বর্ষা এলেই ভিআইপি রোডের হলদিরামে চেনা জলমগ্ন ছবি। চরম দুর্ভোগ। তৃণমূল আমলে যে জল জমত, বিজেপি আমলে জমছে সেই একই জল। সমস্যা মিটছে না কেন? পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনদিক থেকে নিকাশির জল এসে একটি নিকাশিতে পড়ে। সেই নিকাশির ধারণ ক্ষমতা কম। এই কারণেই সমস্যা। যতটা জল আসে, ততটা জল একসঙ্গে বার হওয়ার জায়গা নেই। ফলে ‘ওভারফ্লো’ হয়েই জল জমে যায়। নিকাশির ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পরিকাঠামো বদল করলেই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এলাকার বাসিন্দাদেরও দাবি, দ্রুত পরিকাঠামো বদল করা হোক।
কৈখালির ভিআইপি রোডের হলদিরাম সিগন্যাল শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ওই এলাকায় ভিআইপি রোডের উপর যেমন মারাত্মক গাড়ির চাপ থাকে, তেমনই সেখান থেকে চিনারপার্কের দিকেও অসংখ্য যানবাহন যাতায়াত করে। ফলে ওই এলাকায় ব্যস্ততাও বেশি। বিশেষ করে অফিস টাইমে যানবাহন সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে বৃষ্টি হয়ে জল জমে গেলে ট্রাফিক ব্যবস্থার উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। গাড়ির গতি কমে যায়। ভিআইপি রোডে হাঁটুজল ছাড়িয়ে যায়। সার্ভিস রোড কোমরসমান। ফলে, বাইকে যাঁরা যাতায়াত করেন, তাঁদেরও দুর্ভোগের শেষ থাকে না। হেঁটে যাতায়াত করাও মুশকিল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরই পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ওই অঞ্চল পরিদর্শন করেছিলেন। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে জল জমার বিষয়টিতে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তৃণমূলের আমলেও দুর্ভোগ। বিজেপির আমলেও দুর্ভোগ। তাই পরিষেরা উন্নত করা হোক। যেন মানুষকে দুর্ভোগের শিকার হতে না হয়। এ ব্যাপারে পূর্তদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘তিনদিন থেকে তিনটি পাইপে নিকাশির জল আসে হলদিরামে। তারপর অন্য একটি নিকাশির পাইপলাইনে সেই জল পড়ে। তিনটি পাইপের জল একটি পাইপ ধারণ করতে পারে না। তাই ওই পরিকাঠামো বদলাতে হবে। বিষয়টি দপ্তরকে জানানো হয়েছে। যতটা দ্রুত সম্ভব ঠিক করা হবে।