লখনউ: ‘হামারি মাঙ্গে পুরি করো’। তুমুল বৃষ্টির মধ্যেই লখনউয়ের ডুবাগ্গা-কানপুর বাইপাসে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ কয়েকশো স্কুলছাত্রীর। বিক্ষোভ থেকে ঘনঘন স্লোগান উঠছে, ‘জেলাশাসককে ডাকো, মুখ্যমন্ত্রীকে ডাকো।’ পড়ুয়াদের দাবি, তাদের স্কুলের পরিকাঠামো ঠিক করতে হবে। উন্নত করতে হবে পড়াশোনার মানও। বিচ্ছিন্ন কোনো একটি ঘটনা নয়। উত্তরপ্রদেশে গত ২০ দিনে অন্তত পাঁচটি স্কুল পড়ুয়াদের এমন বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি। কোথাও আবার মাদক ব্যবসা বন্ধ করা বা রাস্তা সংস্কারের দাবি। বড়োদের জন্য আর অপেক্ষা করছে না খুদেরা। নিজেরাই নেমে পড়ছে রাস্তায়। জেন জি’দের আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল রাজধানী দিল্লি। সেই আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বাকি দেশেও। উত্তরপ্রদেশের স্কুল পড়ুয়াদের এই ধারাবাহিক বিক্ষোভকে জেন জি আন্দোলনের ‘উত্তরসূরি’ বলা চলে। যাকে বলা হচ্ছে, ‘জেন আলফা আন্দোলন’। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত যারা জন্মগ্রহণ করেছে তারা ‘জেন আলফা’। তাদের এখনও ভোটাধিকার হয়নি, কিন্তু সমাজের উন্নয়নে প্রশাসনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, সেই সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল তারা। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার। আজমগড়ের স্মিথ ইন্টার কলেজের পড়ুয়ারা প্রায় দু’ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভে বসে। শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিতে স্কুল চত্বরেই চলে বিক্ষোভ।
লখনউয়ের জয়প্রকাশ নারায়ণ সর্বোদয় বিদ্যালয় নামে একটি আবাসিক সরকারি স্কুলের ছাত্রীরা একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে সরব হয়। তারা জানায়, তাদের স্কুলে হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষক। কয়েকটি বিষয়ের শিক্ষকই নেই। ফলে বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতিই নিতে পারছে না তারা। এছাড়া নিম্নমানের খাবার, ওষুধের অভাব সহ অন্য সমস্যার কথাও তুলে ধরে তারা। স্কুল থেকে মিছিল করে দেড় কিলোমিটার দূরের একটি রাস্তায় গিয়ে অবরোধ শুরু করে ছাত্রীরা। অনামিকা নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিযোগ, ‘রসায়ন ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগে আর কোনো শিক্ষক নেই। এই নিয়ে অভিযোগ করায় আমাদের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে। খারাপ ব্যবহারও করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।’ অবরোধের পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের দিকেও যাওয়ার চেষ্টা করে পড়ুয়ারা। যদিও সরকারি আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ বোঝানোর পর অবরোধ তুলে নেয় তারা।
শুধু ছাত্রীরা নয়, দিনকয়েক আগে ওই স্কুলের ছাত্ররাও একই দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। সেদিন উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী অসীম অরুণ তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় রাস্তায় নামে ছাত্রীরা। মঙ্গলবার আজমগড়ের পড়ুয়ারা অভিযোগ করে, গত ২৬ বছর ধরে তাদের স্কুলে কোনো স্থায়ী রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার শিক্ষক নেই। অন্য বিভাগেও শিক্ষকের অভাব। তাই পড়ুয়াদের স্বার্থে দ্রুত নিয়োগ করতে হবে।



