


সংবাদদাতা, বসিরহাট: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধপরিস্থিতিতে উদ্বেগে বসিরহাটের একটি পরিবার। বাগুন্ডি গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন গাজি কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন সপরিবারে ইরানের বাসিন্দা। দুদিন ধরে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি এখানকার আত্মীয়রা। ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের কারণেই হয়তো এই সমস্যা। পরিবার সূত্রের খবর, আমির হোসেন কাজের জন্য কয়েকবছর আগে ইরানে যান। পরে নিয়ে গিয়েছেন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে। সন্তানরা সেখানেই পড়াশোনা করে। সেখানে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আমির ও তাঁর স্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়া মারফত বসিরহাটের পরিজনদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ হয়। ছুটিতে দেশেও ঘুরে যান তাঁরা। কিন্তু আকস্মিক যুদ্ধপরিস্থিতে ইরানের একাধিক শহরে বিক্ষোভ চলছে, মোতায়েন হয়েছে সেনা। সামরিক তৎপরতা বেড়েছে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। ইন্টারনেট পরিষেবায় আংশিক বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ইরানের মাটি থেকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ আপাতত বিঘ্নিত।
আমির হোসেন গাজির বসিরহাটের পরিবার সদস্যদের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যকোনো মাধ্যমেও বার্তার উত্তর মেলেনি। তাঁরা রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছেন। আমিরের মা ইয়ার বানু বিবি বলেন, ‘ছেলে, বউমা আর নাতি-নাতনির সঙ্গে দুদিন ধরে কথা হয়নি। ওরা কেমন আছে জানি না। ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ, ওদের তাড়াতাড়ি দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা হোক। ওরা ইরানে নিরাপদে আছে কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া দরকার এখনই।’
এলাকার বাসিন্দারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেশী সিরাজ আলির কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওঁরা কাজ আর পড়াশোনার জন্য ইরানে থাকেন। খুব ভদ্র ও শিক্ষিত পরিবার। মাঝেমধ্যে দেশে এলে সবার সঙ্গে দেখা করেন। এখন এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওঁদের নিয়ে আমরা সবাই চিন্তায় আছি। টিভিতে যে খবর দেখছি, পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক নয়। সব মিলিয়ে বাগুন্ডি অঞ্চলে আলোচনার বিষয় একটাই, কবে বাড়ি ফিরবে আমিরের পরিবার? কেউ কেউ বলছেন, হয়তো সাময়িক নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে তাঁদের ফিরতে দেরি হতে পারে। সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছেন পরিবার ও প্রতিবেশীরা। তবে, ইয়ার বানু বিবির একটাই প্রত্যাশা, পরিস্থিতি যেন দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়। নিরাপদে দেশে ফিরুক তাঁর ছেলের পরিবার।