


মথুরা: মাটিতে পরে পাঁচজনের নিথর দেহ। পাশে রাখা দুধের গ্লাস। মঙ্গলবার সকালে এমনই দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন মথুরার খপ্পরপুর গ্রামের মানুষজন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন মণীশ কুমার (৩৫), তাঁর স্ত্রী সীমা (৩২) এবং তাঁদের তিন নাবালক সন্তান হানি (৫), প্রিয়াঙ্কা (৪) ও পঙ্কজ (২)। অনেকেই এর সঙ্গে বুরারি কাণ্ডের মিল খুঁজে পেয়েছেন। ২০১৮ সালে দিল্লির বুরারিতে বাড়ির মধ্যে আত্মহত্যা করেছিলেন একই পরিবারের ১১ জন্য সদস্য।
মণীশ পেশায় কৃষক। রোজ সকালে কাজে বেরতেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে তাঁকে কেউ বাড়ির বাইরে বেরোতে দেখেনি। এমনকি তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদেরও বাড়ির বাইরে আসতে দেখেনি কেউ। বেলা বাড়লে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। কিছু একটা বিপদ হয়েছে এই সন্দেহে পুলিশে খবর দেন তাঁরাই। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ঘরের ভিতর ঢোকে পুলিশ। বাড়ির পাঁচ সদস্যকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘরের ভিতর থেকে কয়েকটি দুধের গ্লাস উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তা সন্তানদের খাইয়ে সস্ত্রীক নিজেও খেয়েছিলেন। ওই বাড়ির রান্নাঘরের দেওয়ালে একটি লেখা পুলিশের নজরে আসে। যেখানে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, ‘আমরা নিজের ইচ্ছায় মৃত্যুবরণ করছি। পুলিশ যেন কাউকে বিরক্ত না করে।’ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। প্রশাসনের তরফেও জানানো হয়েছে, তদন্তে সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।