


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: হস্টেলে সিনিয়রদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ বহরমপুর কলেজের প্রথম বর্ষের পড়ুয়ারা। তাদের দিয়ে কখনও জামাকাপড় কাচানো, আবার কখনও ভাত গুনতে বলা হতো। নির্যাতনের কথা সরাসরি মেল করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে(ইউজিসি) জানাতেই নড়েচড়ে বসে কলেজ কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমিস্টারের পাঁচ পড়ুয়াকে কলেজ হস্টেল থেকে বহিষ্কার করল অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি। এই ঘটনায় শোরগোল শুরু হয়েছে। সোমবার তাঁদের এক মাসের জন্য বহিষ্কার করা হতে পারে বলে কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে।
বহরমপুর শহরের ধোপঘাটির কাছে রয়েছে বহরমপুর কলেজের বয়েজ হস্টেল। সেখানে প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের উপর নিয়ম করে চতুর্থ সেমেস্টারের পড়ুয়ারা র্যাগিং করত বলে অভিযোগ। ওই হস্টেলে জনা চল্লিশ পড়ুয়া থাকেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম বর্ষের ভূগোল অনার্সের এক পড়ুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে ইউজিসি কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়। শনিবার এই বিষয়ে কলেজের অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির বৈঠক বসেছিল। র্যাগিংয়ের অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তদের অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির সামনে হাজির করানো হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়। তারপর ওই কমিটি অভিযুক্ত পাঁচ ছাত্রকে কলেজের হস্টেল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁদের লিখিতভাবে সেই নির্দেশ জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শান্তনু ভাদুড়ি বলেন, দ্বিতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমেস্টারের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। অভিযুক্তদের আমরা হস্টেল ছেড়ে দিতে বলেছি। আর হস্টেলে আরও ভালোভাবে নজরদারি করা হবে, যাতে এরকম কোনও ঘটনা না ঘটে। অভিযুক্তরা নাকি ছোটদের ধমক দেয়। তাঁদের জামাকাপড় কাচতে বলে। ভাত কোনওদিন বেশি হয়ে গেলে ওদের সেই ভাত গুনতে বলত।
তিনি আরও বলেন, যাঁরা অভিযোগ জানিয়েছে তারা সরাসরি ইউজিসিকে জানিয়েছে। কলেজ হস্টেলের একজন সুপার আছেন। তাঁকেও ওই ছাত্ররা কিছু জানায়নি। ছাত্ররা আমাদের অভিযোগ জানালে আমরা অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। এই কলেজে হস্টেলে যারা থাকে আমরা এখানে তাদের অভিভাবক। তাই তাদের সমস্ত দিক আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। অভিযোগকারী এক ছাত্র বলেন, একদিন ভাত বেশি হয়েছিল। সেদিন আমাদের ভাত গুনতে বলা হয়। আমাদের উপর খুব চিৎকার চেঁচামেচি করত। আমরা খুব ভয় পেতাম। নানা রকম হুকুম করত, সেগুলি আমাদের করতে হতো। খুবই আতঙ্কে আছি। ওরা হস্টেল থেকে চলে গেলেই ভালো হবে।
বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তথা কলেজের প্রাক্তনী নাজমুল মিঙ্গা বলেন, আমিও ঘটনাটি শুনেছি। আমরা সকলেই র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে। এটাকে কিছুতেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। আগামী দিনে তদন্ত করে যদি কলেজ থেকে অভিযুক্ত ছাত্রদের বহিষ্কার করতে হয়, তাও করতে হবে। কিছুতেই জুনিয়র পড়ুয়াদের ক্ষতি করতে দেওয়া যাবে না।-নিজস্ব চিত্র