নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ৩ জুলাই শুক্রবার নাগাদ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে বর্ষা মরশুমের প্রথম নিম্নচাপটি সৃষ্টি হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর মঙ্গলবার জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে ইতিমধ্যেই একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এর জেরে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে বলে আশা আবহাওয়াবিদদের। আগামী রবি ও সোমবার কলকাতাসহ অনেকগুলি জেলায় ভারী ও কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় শনিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কিছুটা বেড়েছে। ৩ জুলাই থেকে পরবর্তী ঘোষণা না-হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের উপকূলের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না-যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
অনেকদিন থমকে থাকার পর দেশের একটা বড়ো অংশে মঙ্গলবার মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছে। ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের যে অংশুটুকু বাকি ছিল সেটা ছাড়াও মধ্যপ্রদেশের আরো কিছু অংশে এবং উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচলপ্রদেশের কিছু এলাকায় ও লাদাখে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে রাজধানী দিল্লি ছাড়াও পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, জম্মু ও কাশ্মীরের কিছু অংশে বর্ষা ঢুকবে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। স্বাভাবিক গতিতে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে গোটা দেশে বর্ষাকাল শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এবার এল নিনোসহ কয়েকটি প্রতিকূল আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির জন্য দেশে বর্ষার অগ্রগতি মন্থর এবং সক্রিয়তাও কম। ফলে জুনে দেশে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টির ঘাটতি ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। মধ্য ভারতে সবথেকে বেশি ৫০ শতাংশ ঘাটতি আছে। জুনে দেশে বৃষ্টির এতটা ঘাটতি খুব কমই হয়েছে। এখন দেখার নিম্নচাপের প্রভাবে ও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় জুলাইয়ে বৃষ্টি কত বাড়ে। চাষবাসের নিরিখে জুলাই ও আগস্টের বৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ। ফাইল চিত্র