রাঁচি (পিটিআই): নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে ছাত্রছাত্রীদের বিধানসভা অভিযানে ব্যাপক পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগে ৩০০ জন ‘অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতী’র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। বৃহস্পতিবার একথা জানিয়েছেন রাঁচির পুলিশ সুপার পরস রানা। তিনি বলেছেন, গত ১০ আগস্টের ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়েছে বিধানসভা থানায়। বিধিনিষেধ অমান্য, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি ও পুলিশকে হামলার অভিযোগে ৩০০ জন ‘অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতী’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। হাতিয়ার মহকুমা শাসক নীরজ কুমার বলেছেন, ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। হেমন্ত সোরেন সরকারের শরিক কংগ্রেস অবশ্য ২৪ ঘণ্টা আগেই অভিযোগ করেছিল যে, হিংসা ছড়িয়ে ছাত্রছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ মিছিল ভন্ডুল করতে ভিনরাজ্য থেকে লোক ঢুকিয়েছিল বিজেপি। তারপরই এই এফআইআর।
প্রতিবাদী পড়ুয়াদের সঙ্গে ছ’দফা আলোচনায় বসেছে ঝাড়খণ্ড সরকার। তবে সমাধান সূত্র এখনও অধরা। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতর অনশন কর্মসূচি বৃহস্পতিবার ১২তম দিনে পড়েছে। অনশনরত ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার (জেএলকেএম) এই নেতা বর্তমানে রাঁচির সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রতিবাদী পড়ুয়াদের অভিযোগ, মাহাতর শারীরিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য জেলা প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করছে। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে না। ঠিক যেমনটা দিল্লির আন্দোলনে অনশনরত সোনাম ওয়াংচুকের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল। ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি অভ্যার্থী ন্যায় মঞ্চ’-এর সভাপতি রামাবতার মাহাতর অভিযোগ, ‘ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন দুর্বল করতেই এভাবে গোপনীয়তার আশ্রয় নিচ্ছে প্রশাসন।’ বুধবার রাতে স্বয়ং দেবেন্দ্রনাথ মাহাত রাঁচির সিভিল সার্জেনকে চিঠি লিখে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামের মূল ধরনাস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছেন। চিঠিতে অনশনরত ছাত্রনেতা লিখেছেন, ‘আমার শরীর হাসপাতালের বেডে থাকলেও আত্মা রয়েছে সত্যাগ্রহস্থলে। কারণ, সেখানেই প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের ভবিষ্যৎ রক্ষার ন্যায্য সংগ্রাম চালাচ্ছেন।’