Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, ময়নায় ভূতুড়ে ভোটারের নাম তোলায় ইআরও এবং এইআরও-র বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর

ময়না বিধানসভায় ভূতুড়ে ভোটার এন্ট্রির ঘটনায় সাসপেন্ড হওয়া ইআরও এবং এইআরও-র বিরুদ্ধে তমলুক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল প্রশাসন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, ময়নায় ভূতুড়ে ভোটারের নাম তোলায় ইআরও এবং এইআরও-র বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ময়না বিধানসভায় ভূতুড়ে ভোটার এন্ট্রির ঘটনায় সাসপেন্ড হওয়া ইআরও এবং এইআরও-র বিরুদ্ধে তমলুক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল প্রশাসন। মঙ্গলবারের মধ্যেই সাসপেন্ড থাকা ইআরও বিপ্লব সরকার এবং এইআরও সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে হবে বলে নির্দেশ এসেছিল। সেইমতো এদিনই দুই অফিসারের বিরুদ্ধে তমলুক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। জেলাশাসকের নির্দেশে একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।

Advertisement

গত জুলা‌ই মাসে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভায় ১৪১জন ভূতুড়ে ভোটার শনাক্ত করে নির্বাচন কমিশন। ময়না বিধানসভায় ৭৬ জন এবং নন্দকুমার বিধানসভায় আরও ৬৫ জন ভূতুড়ে ভোটারের নাম খুঁজে বের করা হয়। কমিশনের নির্দেশে সেইসব নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তমলুক বিডিও অফিসে কর্মরত অফিসার ইনচার্জ ইলেকশন তথা ময়নার এইআরও সুদীপ্ত দাস ওই ঘটনায় অভিযুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন তাঁকে সাসপেন্ড করে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের অফিসে ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভার দুই ইআরওকে তলব করা হয়। সুদীপ্ত দাসের পাশাপাশি ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকারকেও সাসপেন্ড করা হয়। নির্বাচন কমিশন তাঁদের বিরুদ্ধে রাজ্যকে এফআইআর করার নির্দেশ দিলেও সেই পথে না গিয়ে সাসপেনশন করে চ্যাপ্টার ক্লোজ করে দিয়েছিল রাজ্য। কিন্তু, সাসপেন্ড হওয়া দুই অফিসারের বিরুদ্ধে পুনরায় এফআইআর করার নির্দেশ আসে।
সম্প্রতি তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট অফিসার তথা ময়নার এইআরও সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংস(ডিপি) করেছে রাজ্য। তদন্তকারী অফিসার ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি) বৈভব চৌধুরী। সেই তদন্ত শেষে রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে। সুদীপ্তবাবুর সাসপেনশন প্রত্যাহার হয়নি। গত ৫জানুয়ারি বিপ্লবাবুর উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়। তিনি জেলায় সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা দপ্তরের অফিসার ছিলেন। ভূতুড়ে নাম ওঠার নেপথ্যে বিপ্লববাবুর প্রত্যক্ষ কোনো যোগ ছিল না বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর। ময়না বিধানসভার ইআরও হিসেবে তাঁর লগইন আইডি ওই বিধানসভার এইআরও সুদীপ্ত দাসের কাছে ছিল। সেই আইডি ব্যবহার করে ভূতুড়ে নাম তোলা হয় বলে জেনেছে প্রশাসন।তমলুক ব্লকের অনন্তপুর-১ ও ২, নীলকুণ্ঠ্যা, শ্রীরামপুর-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত ময়না বিধানসভার মধ্যে পড়ে। তাছাড়া, ওই ব্লকের বিষ্ণুবাড়-১, পদুমপুর-১ ও ২পঞ্চায়েত নন্দকুমার বিধানসভার মধ্যে পড়ে। অভিযোগ, তমলুক বিডিও অফিসে বসে অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম তালিকায় এন্ট্রি করা হয়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুর, মধ্যমগ্রাম, শ্যামনগর সহ বিভিন্ন জায়গার সাইবার কাফেতে ভুয়ো নথি আপলোড করে ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভার ভোটার হিসেবে তালিকায় নাম তোলার আবেদন করা হয়েছিল। দ্রুত সেইসব আবেদন খতিয়ে দেখে নাম তোলা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের এক অফিসার বলেন, ময়না বিধানসভায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে জড়িত থাকা দুই অফিসারকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়।  তাঁদের বিরুদ্ধে ফের এফআইআর করার শেষ সময়সীমা ছিল মঙ্গলবার। এদিন জেলাশাসকের নির্দেশে একজন ম্যাজিস্ট্রেট তমলুক থানায় অভিযোগ করেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ