শুভ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা
শুভ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা
২০১৮ সালে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ। এদেশে এসে ভারতীয় নথি জোগাড় করে রাতারাতি ‘ইন্ডিয়ান সিটিজেন’ হয়ে যাওয়া। তারপর আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার আড়ালে শুরু হয় ‘আসল খেলা’। অবৈধভাবে ভারতে আসা বাংলাদেশিদের ভারতীয় নথি ও পাসপোর্ট সরবরাহের কারবার শুরু করে আদতে বাংলাদেশি নাগরিক ইমরান আহমেদ। ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হতে বেশি সময় লাগেনি। কলকাতা শহরে চারটি ফ্ল্যাট ও একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি কিনে ফেলে। অবশেষে তপসিয়া থেকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে সেই ‘ট্রানজিট গেটওয়ে ম্যান’ ইমরান আহমেদকে। তার মাধ্যমে কতজন বাংলাদেশি নাগরিকের ভারতীয় পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে, জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। অবৈধ পথের রোজগারেই তার এত সম্পত্তি কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জাল পাসপোর্ট-কাণ্ডে ধৃতদের জেরা করে পুলিস জানতে পারে, তপসিয়া এলাকায় ইমরান নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক অনুপ্রবেশকারীদের ভুয়ো ভারতীয় নথি সরবরাহ করছে। সেই সব নথির ভিত্তিতে ইস্যু হচ্ছে পাসপোর্ট। তদন্তে জানা যায়, ওই ব্যক্তি নিজেই অনুপ্রবেশকারী। নাম ইমরান আহমেদ। ২০১৮ সালে যে দালালের হাত ধরে সে ভারতে ঢোকে, সে-ই তাকে জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি করে দেয়। তা দেখিয়ে সে এপিক কার্ড ও আধার বানিয়ে নেয়। ইতিমধ্যে এই রাজ্যের ভোটারও হয়ে গিয়েছে ইমরান। এসব নথি জমা করে পাসপোর্ট বানিয়ে ফেলতে কোনও সমস্যা হয়নি। ভারতীয় নাগরিক হয়ে যাওয়ার পর তসপিয়ার একটি ঠিকানায় আমদানি-রপ্তানির ব্যবসায়িক সংস্থা খুলে বসে। কোম্পানির মালিক হিসেবে আরওসি’র কাছে জমা পড়েছে তার ভারতীয় প্যান কার্ড। এমনকী কোম্পানির নামে আয়কর রিটার্ন পর্যন্ত জমা পড়ছে। এসব তথ্য হাতে আসার পর কয়েকদিন আগে তাকে গ্রেপ্তার করে লালবাজার।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত ইমরান বাংলাদেশের সঙ্গেই এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ব্যবসা চালাত। এর আড়ালে সে বাংলাদেশিদের ভারতে ঢুকিয়ে তাদের ভুয়ো ভারতীয় নথি ও পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার কারবার ফেঁদেছিল সে। সীমান্তের দু’পারেই রয়েছে তার একাধিক এজেন্ট। তারাই অনুপ্রবেশ ও পরবর্তী সব ব্যবস্থা করত। অনুপ্রবেশকারীদের নামে জন্মের জাল শংসাপত্র, ভোটার কার্ড তৈরির কাজ চলত সৌমেন পাল নামে হাবড়ার এক বাসিন্দার বাড়িতে। তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিস। সৌমেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, দালালের মাধ্যমেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় ইমরানের। তার কথামতোই সে এসব ভুয়ো নথি তৈরি করত। ইমরান জেরায় জানিয়েছে, এই জাল নথির ভিত্তিতে আধার কেন্দ্র থেকে সে আসল আধার তৈরি করে দিত অনুপ্রবেশকারীদের। তার ভিত্তিতে আরপিও’র একাংশকে ম্যানেজ করে হয়ে যেত পাসপোর্ট।