শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: খাদ্যের মান বজায় রাখতে তৎপর প্রশাসন। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান শেষ হয়েছে সম্প্রতি। ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর উত্তর ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলার চার মহকুমা— বারাসত, বিধাননগর, দমদম ও বারাকপুরে চলে সুরক্ষা অভিযান। মোট ৫২৫টি দোকান, হোটেল, রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান এবং বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। তার মধ্যে ৭০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু বন্ধ করেই থামেনি দপ্তর। ১৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল ও ১৫টির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও ৪১টি প্রতিষ্ঠানে (সাময়িক) নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলায় ৩৫০টি দোকানে অভিযান চালিয়েছে জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। তার মধ্যে ১১টির লাইসেন্স বাতিল করে তা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। আর দুটি দোকানে খাবার বিক্রি না করে সাময়িক দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, টাকি পুরসভা পরিচালিত গেস্ট হাউসেই খাদ্য সুরক্ষা নীতি বিধি ছিল। সরকারি এই গেস্ট হাউসের রান্নাঘর অপরিচ্ছন্ন, খাবারে হাইজিন না মানা থেকে শুরু করে সব বিধি শিকেয় ছিল। তাই এটি বন্ধ করেছে দপ্তর। সব মিলিয়ে এই স্বাস্থ্যজেলায় ১৩টি দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দপ্তর।
জানা গিয়েছে, অভিযানে গিয়ে ফ্রিজ খুলতেই সামনে এসেছে বেহাল ছবি। সংরক্ষণের নিয়ম মানা হয়নি। অর্ধেক রান্না করা খাবার দিনের পর দিন রাখা হয়েছে। ক্রেতার চোখ টানতে খাবারে দেওয়া হচ্ছিল অতিরিক্ত রং। মিষ্টির দোকান থেকে হোটেল, সর্বত্র রঙিন খাবারের পিছনের ছবিটা খতিয়ে দেখেছেন আধিকারিকরা। কিছু মিষ্টির দোকানে এমন রংয়ের সন্ধান মিলেছে যা খাবারে ব্যবহারের জন্য নয়। ‘মেটানিল ইয়েলো’-র মতো রং ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। মাত্র ১০ টাকার একটি প্যাকেট দিয়ে বিপুল পরিমাণ খাবারে রং করা যায় বলে সূত্রের দাবি। প্যাকেটেই সতর্কবার্তা থাকে। তারপরও রং মিষ্টি ও অন্য খাবারে ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই অভিযানের তালিকায় ছিল সল্টলেকের সেক্টর ২-এ রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তরের অধীন থাকা একটি হোটেল-গেস্ট হাউস। সেখানে খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম মানা হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। পরিদর্শনের পরে হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর।