সংবাদদাতা, মানবাজার: ভোট মিটলেও যেন উত্তাপ কমেনি পুরুলিয়ার মানবাজার ও বান্দোয়ান বিধানসভায়। প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই পুরুলিয়ার মানবাজার ও বান্দোয়ান বিধানসভা কেন্দ্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ছবি। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের এখন নজর স্ট্রংরুমে, যেখানে সংরক্ষিত রয়েছে ইভিএম। স্ট্রংরুমের বাইরে মানবাজার ও বান্দোয়ান বিধানসভার দুই প্রতিপক্ষ দলের কড়া নজরদারি রয়েছে।
প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ও মানবাজারের এসটি সংরক্ষিত আসনের ভোটগ্রহণ। ভোটের দিন বড়ো কোনো অশান্তির খবর মেলেনি। সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেয় সাধারণ মানুষ। ভোটদানের হারও ছিল উল্লেখযোগ্য, যা অতীতে দেখা যায়নি। মানবাজারে ভোট পড়েছে ৮৯.৫২ শতাংশ। তাকে ছাপিয়ে বান্দোয়ান বিধানসভায় ভোট পড়েছে ৯১.২৮ শতাংশ। আর এতেই দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের ভোটের পরেও বেড়েছে উত্তাপ।
ভোট শেষ হতেই সমস্ত ইভিএম নিয়ে আসা হয় মানবাজারের মানভূম মহাবিদ্যালয়ে তৈরি স্ট্রংরুমে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তা রয়েছে। বাইরে নজরদারি চালাতে দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলিকে। স্ট্রংরুমের বাইরে দিন রাত পালা করে পাহারা দিচ্ছেন তৃণমূল ও বিজেপির প্রতিনিধিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার মানবাজার ও বান্দোয়ান দুই কেন্দ্রেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। তাই ফল ঘোষণার আগে কোনোরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না কোনোপক্ষই। দুই দলই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। আর সেই কারণেই স্ট্রংরুম যেন আঁকড়ে রয়েছে দুই রাজনৈতিক দল।
বিজেপির মানবাজার বিধানসভার কনভেনর বাণীপদ কুম্ভকার বলেন, আমাদের কর্মীরা পালা করে স্ট্রংরুমের বাইরে নজরদারি চালাচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের মানবাজার-২ ব্লকের ভাইস প্রেসিডেন্ট শান্তিগোপাল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমাদের কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে সেখানে থাকছেন। আমরাও মাঝেমধ্যে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে আসছি। জয়ের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।
তৃণমূলের মানবাজার-১ ব্লক সভাপতি অপূর্ব সিংহ বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দলের তিনজন করে প্রতিনিধি সেখানে নজরদারিতে রয়েছেন। আমাদেরও তিনজন প্রতিনিধি সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না খতিয়ে দেখছেন।’