নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধুম জ্বর। প্রবল কাঁপুনি। প্রচণ্ড মাথাব্যথা। এই তিন উপসর্গের কথা শুনলেই ডাক্তারদের মাথায় প্রথম যে চিন্তাটা আসে, ম্যালেরিয়া হয়নি তো? কিন্তু, গত কয়েক মাসে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় প্রায় বিনা জ্বরে, প্রকট উপসর্গ ছাড়াই অসংখ্য মানুষের শরীরে মিলছে ম্যালেরিয়ার জীবাণু!
পশ্চিমাঞ্চলের ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও ডুয়ার্সের বেশ কিছু জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা থেকে এই খবর মিলেছে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, বনাঞ্চলের জনজাতির মধ্যে এই ধরনের আশ্চর্য ম্যালেরিয়া দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে এই দুই প্রান্তের কিছু কিছু বনাঞ্চলে মানুষের রক্তপরীক্ষা করে উপসর্গহীন ম্যালেরিয়ার চিহ্ন মিলেছে। তারপরই সতর্ক হয়ে চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে শুরু হয় সমীক্ষা ও টেস্টিং। কয়েকজনের রক্তে জীবাণু ধরা পড়তেই গোটা গ্রামে ম্যালেরিয়ার মাস টেস্টিং হয়েছে।
এটি কি নতুন ধরনের ম্যালেরিয়া? সূত্রের খবর, একেবারেই নয়। রক্ত পরীক্ষায় ভাইভ্যাক্স অথবা ফ্যালসিফেরাম ম্যালেরিয়ার জীবাণুই মিলছে। লাখ টাকার প্রশ্ন হল, উপসর্গ নেই কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, জঙ্গলাকীর্ণ এইসব জায়গায় দশকের পর দশক ধরে জনজাতি মানুষের মধ্যে ‘ফরেস্ট ম্যালেরিয়া’ হয়ে আসছে। যেমন, ঝাড়গ্রামের শেষপ্রান্তে গোপীবল্লভপুর থেকে কিছুটা দূরেই কুলডিহা-সিমলিপালের বনাঞ্চল। সেখানকার ‘ফরেস্ট ম্যালেরিয়া’ রীতিমতো কুখ্যাত! ফি বছর এই ম্যালেরিয়া হওয়ায় স্থানীয় মানুষের শরীরে এক অদ্ভুত ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। তাই এইসব এলাকায় উপসর্গগুলির প্রাবল্য থাকছে না বললেই চলে। জনস্বাস্থ্যবিদরা জানিয়েছেন, উপসর্গ না থাকায় নিজেরা যে আক্রান্ত, তা জানতেই পারছেন না রোগী, স্থানীয় পঞ্চায়েত ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের কেউই। এতে চুপচাপ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। উপসর্গহীনদের অসুখটাও ক্রমে বিপজ্জনক হয়ে নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
জঙ্গল বাঙালিদের কাছে হট ডেস্টিনেশনগুলির মধ্যে একটি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে টুরিস্টদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকছে। দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, এমন ভাববেন না যে, উপসর্গহীনদের থেকে ম্যালেরিয়া ছড়ালে, আপনারও কোনো উপসর্গ থাকবে না! বরং তা হবে প্রচলিত ম্যালেরিয়ার মতোই তীব্র।