


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দমদম রোডে ফুটপাতের উপর এক মহিলা নাট্যকর্মীর খাবারের দোকান। কয়েকদিন সেটি বন্ধ থাকায় সেই জায়গায় নতুন দোকান বসিয়ে দিয়েছিল এলাকার কিছু স্বঘোষিত মাতব্বর। প্রতিবাদ করায় ওই মহিলা নাট্যকর্মীকে প্রকাশ্যেই মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় দমদম থানার পুলিশ অভিযুক্ত শ্যামল গোস্বামী ওরফে নোনতা ও সুরজ সাউকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের সোমবার বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি ওই মহিলা নাট্যকর্মীর সঙ্গে দেখা করেন। বলেন, কোনো দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না।
দমদম স্টেশন লাগোয়া অটো স্ট্যান্ডের পাশে ফুটপাতেই অর্পিতা সরকারের খাবারের দোকান রয়েছে। তিনি পেশায় নাট্যকর্মী। অসুস্থ থাকায় তিনি কয়েকদিন ওই দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। শনিবার এসে দেখেন, তাঁর জায়গায় অন্য একজনকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে বলা হয়, প্রতিদিন একবেলা আপনি দোকান করবেন, অন্যবেলায় দোকান করবেন আরেকজন। অর্পিতাদেবী বিষয়টি বিজেপি নেতৃত্বকে জানান। রবিবার তিনি দোকান দখলের প্রতিবাদ করলে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় ওই মহিলাকে রাস্তার উপর বেধড়ক মারধর করা হয়। জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। নিগৃহীতা সটান নাগেরবাজার থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রাতে নাগেরবাজার থানার আইসি সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্ত শ্যামল ও সুরজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার ঘটনাস্থলে আসেন বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি। তিনি বলেন, কিছু মাতব্বর টাকার বিনিময়ে ওই মহিলার জায়গায় অন্য লোককে বসিয়েছিল। তিনি প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত হয়েছেন। এলাকায় দাদাগিরি, দখলদারি চলতে দেব না। কিছু দালাল নিজেদের বিজেপি বলে দাবি করে অটো ও টোটো স্ট্যান্ড দখল করতে চাইছে। ওদের উদ্দেশ্য তোলা আদায় করা। সবাইকে জানয়ে দিতে চাই, বিজেপির কোনো শ্রমিক ইউনিয়ন নেই। কেউ দাদাগিরি করলে সরাসরি থানায় অভিযোগ জানান। পুলিশ পদক্ষেপ করবে। কাউকে এক টাকাও দেবেন না।