Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ত্রিকোণ প্রেমের দ্বন্দ্বেই ছাত্রী খুন আন্দুলে, হাসপাতালে ভরতি অভিযুক্ত যুবক ও প্রেমিক

আন্দুলে ত্রিকোণ প্রেমের জেরে দশম শ্রেণির ছাত্রী খুন। অভিযুক্ত সমীরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কী ঘটেছে, বিস্তারিত পড়ুন।

ত্রিকোণ প্রেমের দ্বন্দ্বেই ছাত্রী খুন আন্দুলে, হাসপাতালে ভরতি অভিযুক্ত যুবক ও প্রেমিক
  • ১৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আন্দুল মহিয়ারীতে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে নৃশংস খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল ত্রিকোণ প্রেমের জটিল সম্পর্ক। মৃত ছাত্রীর সঙ্গে পাশের এলাকার কিশোর আকাশ রায়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি অভিযুক্ত সমীর দাস। পুলিশের দাবি, সেই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা থেকেই প্রকাশ্য রাস্তায় ছাত্রীর উপর হামলা চালায় সে।

Advertisement

তদন্তে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকালে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা হয় আকাশের। এরপর আকাশ সেখান থেকে চলে যেতেই সমীর আচমকা ছুরি নিয়ে ছাত্রীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দূর থেকে ঘটনা দেখে ছুটে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে আকাশ। তখন সমীর তার উপরও হামলা চালায়। আকাশের বাঁ দিকের পাঁজরে ছুরির আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় সে স্থানীয়দের সাহায্যে প্রথমে ছাত্রীকে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আকাশ ও গণপিটুনিতে আহত অভিযুক্ত সমীর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সমীর আগে ওই ছাত্রীর বাড়িতেই ভাড়া থাকত এবং একটি কারখানায় কাজ করত। সেই সময় সে প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং মোবাইলে বারবার মেসেজ পাঠিয়ে ছাত্রীকে বিরক্ত করত। মাসখানেক আগে বিষয়টি জানাজানি হলে সমীরকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর নানা অজুহাতে সে ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করত এবং সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করত। এদিকে আকাশের সঙ্গে ছাত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠায় সমীর আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই আক্রোশ থেকেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।
এদিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আকাশ জানায়, ছাত্রী তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুই পরিবারও সেকথা জানত। ঘটনার দিন সে ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ সমীরকে ছুরি নিয়ে হামলা করতে দেখে ছুটে আসে এবং নিজেও জখম হয়। হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, তদন্তে ত্রিকোণ সম্পর্কের একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে। গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়ায় সমীর এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেই খুনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ