Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে মহিলা হকারের আত্মহত্যার চেষ্টা, তীব্র চাঞ্চল্য দমদমে

হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে রাজ্যজুড়ে। শুক্রবার দমদম ও দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে সিটু ও আইএনটিইউসি।

রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে মহিলা হকারের আত্মহত্যার চেষ্টা, তীব্র চাঞ্চল্য দমদমে
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে রাজ্যজুড়ে। শুক্রবার দমদম ও দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে সিটু ও আইএনটিইউসি। এর মধ্যে দমদম স্টেশনে এক মহিলা হকার ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। যদিও দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হকাররাই সরিয়ে নিয়ে যান। ওই সময় একটি ট্রেন দমদম স্টেশনে ঢুকছিল। ওই মহিলা সহ বাকিদের দেখে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে যাওয়ায় বড়ো দুর্ঘটনা ঘটেনি। সেই ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রেল পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সমাজমাধ্যমে এমন খবর তারাও দেখেছে। কিন্তু কোনো অভিযোগ তারা পায়নি।

Advertisement

শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে হকার উচ্ছেদের পর উত্তর শহরতলির বিভিন্ন স্টেশনে উচ্ছেদের নোটিস দিচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। সেভাবেই এদিন দমদম ও ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে হকার উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তারই প্রতিবাদে এদিন এই দু’জায়গায় আন্দোলনে নামে সিটু ও আইএনটিইউসি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলার সময় শিবানী পোদ্দার নামে এক হকার রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন। দমদম রোড থেকে স্টেশনগামী রাস্তায়, জিআরপি অফিসের অদূরে তাঁর ফলের দোকান রয়েছে। ওই সময় দমদম স্টেশনে একটি লোকাল ট্রেন ধীর গতিতে ঢুকছিল। শিবানীদেবী লাইনে ঝাঁপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। ট্রেনটি বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে যায়। আন্দোলনে নামা হকারদের দাবি, উচ্ছেদ করলে রুজিরুটি হারিয়ে তাঁরা রেললাইনে মাথা দিতে বাধ্য হবেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দমদম স্টেশনের মধ্যে ও বাইরে মেট্রো স্টেশন এলাকা মিলিয়ে রেলের জায়গায় প্রায় ৭৫০ দোকান রয়েছে। তারমধ্যে ৩০টি দোকান বন্ধ। অন্যদিকে, দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে প্রায় ২৭০টি স্টল রয়েছে। তার মধ্যেও ৩০টি দোকান বন্ধ। এদিন দু’টি স্টেশনে বিক্ষোভ আন্দোলন কর্মসূচির পর দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে দেখা করে একাধিক দাবি জানান। হকারদের লাইসেন্স প্রদান, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ বন্ধ করা সহ বিভিন্ন দাবি রাখা হয়। সিটু নেত্রী গার্গী চট্রোপাধ্যায় বলেন, ‘বিকল্প রুজিরুটির ব্যবস্থা না করে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না। হকারদের স্বার্থরক্ষায় আমরা লড়াইয়ের ময়দানেই আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে অভিযানের আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রত্যেক রাতে স্টেশন পাহারা দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতি মুহূর্তে সজাগ থাকার পাশাপাশি নিজেদের স্বার্থরক্ষায় হকার ভাই-বোনেদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ